তোমরা ভেবেছিলে জিভ কেটে নিলেই
স্তব্ধ হয়ে যায় সত্যের উচ্চারণ।
ভেবেছিলে ভাষা কেবল এক টুকরো
রক্তমাংস আর বাতাসের ওঠানামা।
অথচ তোমরা জানো না—
শব্দ কোনোদিন তালুর খাঁচায় পোষা শিকার ছিল না।
যে কথাটাকে তোমরা মাঝরাতে
গলার নলি চেপে মেরে ফেলতে চেয়েছিলে,
সেটা এখন ছড়িয়ে পড়েছে
কোটি চোখের স্থির চাউনিতে।
যে বাক্যটাকে তোমরা
নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলে কাগুজে আইনে,
সেটা এখন নেমে এসেছে
রাজপথের ভাঙা ইটের খাঁজে,
মুঠো করা প্রতিটি অনাহারী হাতের শিরায়।
তোমরা মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়েছ,
ক্যামেরার সামনে বসিয়ে রেখেছ মুখস্ত করা তোষামোদের তোতাপাখি।
অথচ যে ছেলেটি ট্রাফিকের মোড়ে দাঁড়িয়ে
অপলক চেয়ে থাকে,
তার সেই বোবা চোখের দিকে
তাকানোর সাহস তোমাদের নেই।
কারণ তোমরা জানো—
উচ্চারিত শব্দের চেয়ে চেপে রাখা ক্ষোভের ওজন
হাজার গুণ বেশি।
একটি শাসনব্যবস্থা ঠিক ততটুকুই দুর্বল,
একজন সাধারণ মানুষের সত্য কথাকে
সে যতটা ভয় পায়।
তোমরা হাজারটা কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারো,
কিন্তু মাটিতে পড়ে থাকা রক্তের দাগ
বাতাসে বুনে দেয় এক অলঙ্ঘ্য বিদ্রোহের ব্যাকরণ।
এখন আর কাউকে নাম ধরে ডাকতে হয় না,
প্রতিবাদের জন্য
কোনো অনুমতির মুখাপেক্ষী হতে হয় না।
তোমাদের এই চাপিয়ে দেওয়া পাথুরে নীরবতাই
আজ তোদের পুরো মসনদের দিকে
তাক করা সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।