ওটা কেবলই কাঠের পাটাতন নয়,
ওটা লোভের রক্তাক্ত সিংহাসন!
ওখানে বসলে অন্ধ হয়ে যায় চোখ,
বধির হয়ে যায় মানুষের মন!
চেয়ারের কোনো ধর্ম থাকে না,
চেয়ার চেনে না নীতি কিংবা লাজ,
বাপের রক্তে পাড়া দিয়ে
ওই কুর্সিতে আজ উঠছে জল্লাদ-সমাজ!
আজ যে ওড়ায় শান্তির পতাকা,
কাল সে-ই আবার গিরগিটির মতো
বদলায় খোলস,
চেয়ার বাঁচাতে ভাই বেচে দেয়,
মা বেচে দেয় ক্ষমতালোভী
দালাল ও তোষামোদকারীর দল!
কখনও পরে ধর্মের মুখোশ,
কখনও আবার আওড়ায় প্রগতির মেকি বয়ান—
আসলে ওটা জল্লাদের আড্ডা,
মসনদ-পূজারী নরপশুদের বিষাক্ত দোকান!
কুর্সি টিকিয়ে রাখতে তোরা বুলেটে ঝাঁঝরা করিস
তারুণ্যের তাজা বুক,
বুকের ওপর বুট চেপে ধরে কেড়ে নিস অধিকার,
কেড়ে নিস সুখ!
ওই চার পায়ার পায়ুপথে বাঁধা
কোটি কোটি মানুষের গুমের শিকল,
সিংহাসনের অহংকারে ভাসিয়ে দিলি
গোটা জনপদের রক্ত-ঢল!
শুন ওরে কুর্সির কীট,
শুন ওরে অন্ধ ক্ষমতার রক্তচোষা পিশাচের দল—
জনতা যখন রাজপথে নামে,
টলে যায় স্বৈরাচারের বর্ম আর বুলেটের বল!
আমাদের হাত এখন আর শুধু হাত নয়—
একেকটা হাতুড়ি আর আগুনের ফণা,
ভেঙে গুঁড়িয়ে ধূলিসাৎ করে দেব
তোদের ওই কাগুজে মসনদের সীমানা!
কুর্সি পুড়িয়ে কাঠকয়লা হবে,
রাজপথে জ্বলবে
গণঅভ্যুত্থানের লাল মশাল,
শহীদের রক্তের কসম খেয়ে
ছিনিয়ে আনব সমতার নতুন সকাল!
যে চেয়ারে বসে খুন করিস সত্য,
যে চেয়ারে বসে চুষে খাস
শ্রমিকের ঘাম—
সেই কুর্সির বুক চিরে
আজ রাজপথে লেখা হবে
চূড়ান্ত বিপ্লবের নাম!
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।