ছাদদেয়াল কিংবা অদৃশ্য কার্নিশো

ছাদদেয়াল কিংবা অদৃশ্য কার্নিশে

- আতাউল হাকিম আরিফ

ছাদদেয়াল কিংবা অদৃশ্য কার্নিশে
- আতাউল হাকিম আরিফ

তোমার বুকের গলিপথে হেঁটে চলেছি
প্রায় দেড়যুগেরও বেশি সময়
সুখ- দুঃখের খেলায় ক্রমেই ম্রিয়মাণ
হতে থাকলো যৌবন দ্বীপ!
দেখেছি ভালবাসায় অসংখ্য ফুল ফুটে,
অভিমানে রক্ত ঝরে।

অজস্র দিন ভাগাভাগি করেছি দেহের ঘ্রাণ,
কখনো কখনো রূপোলী আলোয়
চোখ থমকে গেছে
কখনোবা ভীষণ অন্ধকারে নেমে এসেছে
লেলিহান ঝড়।

মনে পড়ে- একদা তোমার বুকে বিস্ফোরিত
হতে থাকলো জোৎস্নার আলো
আঁচলে বেঁধে রাখা পাখিগুলো উড়ে গেছে
উজ্জ্বলতার স্মারকচিহ্ন বুকে নিয়ে।

দেড়যুগের নিবেদনে-
অসংখ্যবার তোমার সমুদ্রে ঢেউ তুলেছি
তদ্রুপ- অজস্র উদ্বেগ কিংবা বিরোধের
অনিবার্য প্রতিক্রিয়ায়
শব্দ ভেঙ্গেছি- যেমনটি ঝরে পড়ে নক্ষত্র।

প্রিয় সুপ্তি,
এখনো পরম যত্নে রেখেছি তোমার হাতে লিখা নিরানব্বইটি প্রেমপত্র,
ছেঁড়া কাগজে কিংবা ভিউকার্ডে লিখা অসংখ্য চিরকুট
কতশত অঙ্গীকার...
সূর্যরশ্মির দিকে তাকিয়ে দীপ্ত শপত
প্রেম সন্ধিক্ষণের সেইসব দিনগুলো আজো
প্রতিধ্বনিত হয় মর্মরে।

দেখো, আজ বদলে গেছে সময়,
উম্মাদ প্রজন্মের- প্রবল নিদাঘে উল্টেপাল্টে গেছে
আমাদের মায়ার তেলান্তর,
ভেঙে গেছে অসংখ্য মনুমেন্ট!

ঐ দেখো-
তোমার, আমার স্মৃতিচিহ্নগুলোও আজ
পুতনা রাক্ষসীর পেটে চলে গেছে।
প্রজন্ম- নির্দ্বিধায় বরণ করে নিয়েছে কালো অধ্যায়
ওদের চোখে সবুজবীথির ছোঁয়া নেই, আছে মোহ!

প্রিয় সুপ্তি,
কাগজে দেখতে পেলাম-
প্রিয় মানচিত্রের বুকে অবিকল তোমার মতোন
এক নারীর রক্তাক্ত দেহ....
মুহূর্তেই গোধূলির শিয়রে ডুবে মরে গেছে
আমার বুকের পাঁজরে জমে থাকা একগুচ্ছ পদাবলী!

তবুও প্রার্থনা -
আমাদের ভালবাসাটুকু অন্তত জেগে থাকুক ছাদদেয়াল কিংবা অদৃশ্য কার্নিশে!


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।