বুটের তলায় সংবিধান
- মো: আবু তালেব
যে বইটির সোনালী হরফে সযত্নে লেখা হয়েছিল—
‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’,
আজ সেই খোলা পাতার ওপর শুকিয়ে জমে আছে
সাঁজোয়া বুটের কাদার দাগ।
তোমরা যখনই নিজেদের মসনদ নড়বড়ে হতে দেখেছ,
ড্রয়ার থেকে টেনে বের করেছ সংসদীয় কাঁচি;
কেটেছ,
জুড়েছ,
অনুচ্ছেদের ফাঁকে ফাঁকে নির্লজ্জ গুঁজে দিয়েছ
নিজেদের লোভ আর আজীবন ক্ষমতায় থাকার
কালো বয়ান।
যে দলিল হতে পারত একটা মানচিত্রের পাহারাদার,
তোমরা তাকে বানিয়ে রেখেছ
রক্তমাখা অপরাধ ঢাকার ব্যক্তিগত ঢাল।
কালো কোর্ট পরা বিচারকেরা আজ
টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকে,
দাঁড়িপাল্লা ঝুলে থাকে চাটুকারিতার একপাশে।
তারা ধারার পর ধারা আওড়ে বৈধতা দেয়
মাঝরাতে তুলে নেওয়া যুবকের অনন্ত নিরুদ্দেশকে;
তারা জামিন নাকচের আদেশে সই করতে করতে
ভুলে যায়—
যে কালিতে তারা আদেশ লিখছে,
তা কালির নয়,
এক নিঃস্ব পিতার দীর্ঘশ্বাসের রঙ।
তোমরা ভেবেছ পাতা ছিঁড়ে ফেললেই মানুষের অধিকারের স্মৃতি মরে যায়?
একটি জাতির আত্মমর্যাদার অঙ্গীকার
তোমাদের রাবার স্ট্যাম্প আর সাজানো সংসদের হাততালির চেয়ে অনেক বেশি স্থায়ী।
বুটের তলায় পিষে ফেলা যে দলিলকে
তোমরা অকেজো ভেবে ফেলে দিয়েছ,
রাজপথ আজ সেই দলিলের প্রতিটি রক্তাক্ত শব্দকে বুকে খোদাই করে নিয়েছে।
যেদিন এই লোহার বুটগুলো খুলে
পালাবার জায়গা পাবে না,
সেদিন কোনো কাগুজে অধ্যাদেশ
তোদের রক্ষা করবে না।
জনতার আদালত যখন প্রতিটি পাতার
পাই-টু-পাই হিসাব চাইবে,
তখন কোনো সাজানো অনুচ্ছেদ দিয়ে
এই পতন ঠেকানো যাবে না।
কাগজ হয়তো বুলেটের আঘাত থামাতে পারে না,
কিন্তু বুটের তলায় পিষে যাওয়া প্রতিটি সত্য
একদিন নিজেই হয়ে ওঠে স্বৈরাচারের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার অস্ত্র।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।