সমাজ খুব সতর্ক হয়ে ভালোবাসতে শেখায়।
সে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মতো নিয়ম বেঁধে দেয়—
কার পাশে দাঁড়ালে সম্মান সুরক্ষিত থাকবে,
কার হাত ধরলে ফ্ল্যাটের কিস্তি শোধ করা সহজ হবে,
আর কাকে ড্রয়িংরুমে এনে বসাল আত্মীয়রা তারিফ করবে।
তারা অভিজ্ঞ প্রবীণের মতো কপালে ভাঁজ ফেলে সতর্ক করে—
‘ভুল মানুষের প্রেমে পড়া বারণ।’
কিন্তু এই ‘ভুল মানুষ’টা আসলে কে?
যার পকেটে নিশ্চিত ভবিষ্যতের কোনো সঞ্চয়পত্র নেই?
যার কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক শ্রেণি বা নিরাপদ পদবি নেই?
নাকি যে মানুষটা ভদ্রলোকের মতো পরিপাটি মিথ্যা বলতে শেখেনি—সে?
সমাজ যাকে ‘সঠিক মানুষ’ বলে সনদপত্র দেয়,
সে আসলে খুব সাবধানী এক চুক্তিপত্র।
তার জীবনে কোনো ঝুঁকি নেই, কোনো অনিয়ম নেই;
সে সময় মেপে কথা বলে, ওজন মেপে হাসে,
আর দিনশেষে নিরাপত্তার বিনিময়ে সমস্ত ব্যক্তিগত আবেগ কিনে নিতে চায়।
অথচ মানুষের ভেতরটা তো কোনো ব্যাংকের অডিট শাখা নয়।
সে লাভ-ক্ষতির খাতা খুলে দরদাম করতে জানে না।
মানুষ যখন প্রেমে পড়ে,
সে কোনো সাফল্য বা উজ্জ্বলতার কাছে আত্মসমর্পণ করে না;
সে অজান্তেই জড়িয়ে পড়ে এমন এক অদ্ভুত মানুষের সঙ্গে—
যার চোখের গভীরে নিজেরই গোপন কোনো ক্ষতের ছায়া দেখতে পাওয়া যায়।
সেই ভুল মানুষটা তোমাকে কোনো সোনার খাঁচা উপহার দিতে পারে না।
সে তোমাকে কোনো স্থায়ী স্বস্তির নিশ্চয়তা দেয় না।
সে কেবল এক তীব্র ঝড়ের রাতে কোনো ছাদ ছাড়াই পাশে এসে দাঁড়ায়,
আর এমন এক দৃষ্টিতে তাকায়—
যেন এই হিসাবের পৃথিবীতে তুমি কোনো পণ্য নও,
তুমি এক রক্ত-মাংসের জীবন্ত সত্য।
হ্যাঁ, ভুল মানুষের প্রেমে পড়লে চরম মূল্য দিতে হয়।
চোখের তলায় কালি জমে, একাকীত্বের ভারে শরীর নুয়ে পড়ে,
দিনশেষে হয়তো একলা দাঁড়িয়ে দেখতে হয় ফেলে যাওয়া শূন্য স্টেশনের অন্ধকার।
তবু মানুষ কেন বারবার সেই নিষিদ্ধ ভুলেই পা বাড়ায়?
কারণ তথাকথিত ‘সঠিক মানুষ’ মানুষকে কেবল একটা নিরাপদ সংসার দেয়,
নিয়ম দেয়, বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেয়;
কিন্তু সেই ‘ভুল মানুষ’টাই এসে মানুষকে বুঝিয়ে দিয়ে যায়—
মানুষ কোনোদিন কোনো সাজানো সমাপ্ত বাক্য হতে জন্মায়নি;
মানুষের অস্তিত্বই টিকে থাকে
কোনো এক আত্মঘাতী ভুলের ভেতর নিজের আসল সত্তাকে চিনে নেওয়ার স্পর্ধায়।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।