অন্ধ বিচারকের লাল সালু

অন্ধ বিচারকের লাল সালু

- মো: আবু তালেব

চোখের ওপর বাঁধা যে কালো কাপড়টি ছিল
নিরপেক্ষতার প্রতীক,
তোমরা তাকে বানিয়ে নিয়েছ
অন্ধ দাসত্বের এক নির্লজ্জ মুখোশ।
তোমাদের এজলাসে এখন আর
ন্যায়ের পরিমাপ হয় না;
ওখানে কাঠের হাতুড়ির প্রতিটি আঘাতে
আসলে একটা করে সত্যের কপালে
পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়।

দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় তোমরা তুলে দিয়েছ
শাসকের অহংকার আর ক্ষমতার খাম,
আর অন্য পাল্লায় ঝুলছে
চব্বিশ বছরের এক তরুণের তাজা রক্ত।
তোমাদের হাত কাঁপে না
যখন সাজানো বয়ানে চোখ বুলেটের পক্ষে সই করো,
অথচ রাতের আঁধারে তুলে আনা
নিরপরাধ যুবকের রিমান্ড মঞ্জুর করতে
তোমাদের কলম এক মুহূর্তের জন্যও থমকে দাঁড়ায় না!

যে লাল সালু দিয়ে তোমরা এই বিক্রি হয়ে যাওয়া
বেদী ঢেকে রেখেছ,
তা কোনো পবিত্রতার প্রতীক নয়—
ওটা স্বৈরাচারের বর্বরতাকে আড়াল করে রাখা
এক রক্তমাখা চাদর।
তোমরা ধারার ফাঁকফোকর খোঁজো,
অনুচ্ছেদের ছাই ঘাঁটো;
অথচ ভুলে যাও—
আইন যখন জল্লাদের বর্ম হয়ে ওঠে,
তখন সেই আদালত আর ন্যায়ের মন্দির থাকে না;
তা পরিণত হয় এক সিলমোহরযুক্ত কসাইখানায়।

তোমরা ভেবেছ কালো কোটের আড়ালে সারা জীবন
এই অপরাধ লুকিয়ে রাখা যাবে?
ভেবেছ পদোন্নতির লোভ আর
রাজকীয় দাক্ষিণ্যের বিনিময়ে
ইতিহাসের চোখেও তোমরা
আইন বিশেষজ্ঞ হয়ে টিকে থাকবে?
না।
আদেশপত্রে শুকিয়ে যাওয়া কালির চেয়ে
মানুষের বুকের ক্ষতের আয়ু অনেক বেশি।

আজ তোমরা এজলাসে বসে যে রায় লিখে যাচ্ছ,
কাল জনতার প্রকাশ্য আদালতে
ঠিক সেই কাগজগুলোই তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
সেদিন কোনো প্রিভিলেজ তোমাদের বাঁচাতে পারবে না,
কোনো সাজানো নজিরের আড়ালে
মুখ লুকানোর জায়গা থাকবে না।
বিচারক যখন নিজেই ঘাতকের সহযোগী হয়ে ওঠে,
তখন ইতিহাস তার রায় লেখে
কাঠগড়া ভেঙে চুরমার করে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।