জীবনের ছায়াপথে
- মো: আবু তালেব
আমরা অনেক দূর হেঁটে এসে দেখলাম নদী
ক্লান্ত হয়ে শুয়ে আছে হিজল-বনের ওপাশে;
পৃথিবীর যত আলো নিভে গেছে একে একে যদি,
তবু কেন এই মন ধূসর ডানার ঘ্রাণে ভাসে?
নক্ষত্রেরা মরে যায় চিল্কার নির্জন কিনারে,
হাতে নিয়ে একমুঠো শিশিরের মৃদু অহংকার
মানুষ কেবলি খোঁজে অন্ধকার শতাব্দীর পারে
কার চোখ ফেলে গেছে বিস্মৃত এ রূপের আঁধার।
একদিন ভালোবেসে ছুঁয়েছিনু ঘাসের শরীর,
যেখানে ভোরের রোদ বুনো হাঁস হয়ে উড়ে যায়;
আজ এই ছায়াপথে জমে ওঠে স্তব্ধতা নিবিড়,
আয়ুর রঙিন দিন খসে পড়ে কার্তিকের বায়।
জীবনের সেতু দিয়ে কত ছায়া চলে গেছে একা,
শঙ্খমালা ডুবে গেছে কোনো এক অতল সাগরে;
তবুও মাটির নিচে কঙ্কালের ঘুম ভেঙে দেখা—
একজোড়া পাখি যেন কথা কয় পাতার বিবরে।
রক্তের বিষাদ নিয়ে বেঁচে থাকা বড়ো বেশি ভুল,
তবু এই পথ ধরে হেঁটে যায় কুয়াশার লোক;
ডালপালা নুয়ে এলে চেয়ে দেখি শ্যাওলার ফুল,
ক্লান্তির চাদর মেলে ঘুমিয়ে পড়েছে চিল-চোখ।
আমরা কি তবে শুধু ছায়াপথে ফেলে যাব স্মৃতি?
হাড়ের গভীরে জমে শতাব্দীর বিস্মৃত বয়ান;
নদীর ওপার থেকে ডেকে ওঠে অনন্ত আরতি,
সব লেনদেন শেষে পড়ে রয় নিস্তব্ধ শয়ান।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।