যদি

মানুষের অভিধানে এর চেয়ে ক্ষতিকর কোনো শব্দ আর নেই।
মাত্র দুটি বর্ণের এই ছোট অক্ষরজোড়া
জীবনের সমস্ত বর্তমানকে এক লহমায় অর্থহীন করে দিতে পারে।

যদি সেদিন ট্রেনের টিকিটটা বাতিল না করতাম,
যদি সেদিন বৃষ্টি নামার সময় সেই চায়ের দোকানে আরও দশ মিনিট বসতাম,
যদি শেষবার দরজার ওপাশে চলে যাওয়ার সময়
হাতটা শক্ত করে ধরে বলতাম—‘যেও না’,
তবে আজ এই ঘরটা কেমন হতো?

পৃথিবীর কোনো আদালতেই এই ‘যদি’র বিচার নেই।
অথচ প্রতিটি মানুষ তার নিজের তৈরি কাঠগড়ায়
প্রতি রাতে এই একটি শব্দের কাছেই ফাঁসির আসামি হয়ে দাঁড়ায়।
আমরা যা পেয়েছি, তার কোনো হিসেব রাখি না;
যেটুকু পাইনি,
যেটুকু হতে পারত অথচ হয়নি—
সেই সমান্তরাল জীবনটাকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি সত্য বলে বিশ্বাস করে।

টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ফাইল, সংসারের বাজারের থলে,
আর পাশের মানুষটার পরিচিত নিঃশ্বাস—
সবকিছুই তো বাস্তব।
তবু এক ফাঁকে মন পালিয়ে যায় সেই অন্য রাস্তায়,
যে রাস্তায় কোনোদিন পা ফেলাই হয়নি।
সেখানে হয়তো আরও রোদ ছিল,
হয়তো আরও রক্তক্ষরণ ছিল;
তবু মানুষ ভাবে—সেখানেই বুঝি তার আসল মুক্তি ছিল।

ভাগ্য বলে কিছু নেই, নিয়তিও হয়তো অন্ধ।
মানুষ কেবল তার কাপুরুষতা আর ভুল সিদ্ধান্তের নাম দেয় নিয়তি।
আর সারা জীবন
একটি অসম্ভব কাল্পনিক পৃথিবীর ধ্বংসস্তূপে বসে
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে যায়—
‘যদি এমন না হয়ে, তেমন হতো...’

অথচ সে জানে না,
সেদিন যদি সেই পথটা বেছে নেওয়া হতো,
আজ হয়তো অন্য কোনো জানালার গ্রিল ধরে
সে ঠিক একই তৃষ্ণা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।