রাজদ্রোহীর শেষ জবানবন্দি

রাজদ্রোহীর শেষ জবানবন্দি

- মোঃ আবু তালেব

আমি কোনো মার্জনা চাইতে আসিনি।
হাত জোড় করে করুণার দরখাস্ত লেখার মতো
নমনীয়তা আমার মেরুদণ্ডে নেই।

তোমরা অভিযোগপত্রে লিখেছ—
আমি রাষ্ট্রের শান্তি নষ্ট করেছি।
হ্যাঁ, করেছি।
কবরের মতো যে নিস্তব্ধতাকে তোমরা শান্তি বলো,
সেই নিস্তব্ধতার মুখে দাঁড়িয়ে চিৎকার করার সাহস
আমি দেখিয়েছি।
তোমরা লিখেছ—
আমি নিয়ম ভেঙেছি।
হ্যাঁ, ভেঙেছি।
যে নিয়ম মানুষকে নিঃশব্দে গলায় দড়ি পরতে শেখায়,
সেই নিয়মকে লাথি মেরে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়াই ছিল
আমার প্রথম পাঠ।

তোমরা আমাকে রাজদ্রোহী বলো?
মনে রেখো—
শাসক যখন জল্লাদের পোষা লাঠিয়াল হয়ে ওঠে,
তখন রাজদ্রোহই মানুষের একমাত্র পবিত্র দেশপ্রেম!
সিংহাসনকে দেশ ভেবে ভুল করার মতো অন্ধত্ব
আমার কোনোদিন ছিল না;
আমার দেশ মিশে আছে
রাজপথের সেই অমোছনীয় রক্তে,
যা তোমরা মধ্যরাতে
কর্পোরেশনের পানি দিয়ে
ধুয়ে ফেলার অপচেষ্টা করেছিলে।

তোমাদের কেনা বিচারক,
সাজানো ট্রাইব্যুনাল আর কাঠের হাতুড়ি—
এ দিয়ে তোমরা টেবিল পিটিয়ে রায় শোনাতে পারো,
কিন্তু সত্যের পাঁজরে ফাঁসির দড়ি পরাবার সাধ্য তোমাদের কোনো আইনের নেই।
ভয় দেখাবে কাকে?
যে মানুষ নিজের কাফন নিজেই বুনে নিয়ে
মিছিলে নেমেছিল,
তাকে তোমরা কোন অন্ধকূপের ভয় দেখাবে?

মৃত্যুদণ্ডের খসড়া তৈরি করো,
সই করো কাঁপতে থাকা আঙুলে।
কিন্তু মনে রেখো—
দড়ির এক মাথায় ঝুলবে আমার শরীর,
আর অন্য মাথায় বাঁধা থাকবে তোমাদের
অহংকারী সিংহাসনের শেষ খুঁটি।
আমার পতন দেখার আগেই
সেই সিংহাসন ভেঙে মুখ থুবড়ে পড়বে
ইতিহাসের নোংরা পাঁকে।

আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নেই;
আসলে আজ এই পুরো আদালতটাই
দাঁড়িয়ে আছে মানুষের কাঠগড়ায়।
তোমরা রায় লিখছ ক্ষমতার কালিতে,
আর আমি আমার উপস্থিতি রেখে গেলাম
একটা মুক্ত মানচিত্রের জন্মলগ্নে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।