সান্ধ্য আইনের মুখে থুতু

সান্ধ্য আইনের মুখে থুতু

- মো: আবু তালেব

সাইরেনের কর্কশ শব্দে তোমরা ভেবেছিলে
শহরটা এক নিমেষে বোবা হয়ে যাবে।
মাইকে সান্ধ্য আইনের ফরমান জারি করে ভেবেছিলে—
জানালার ওপাশে ভয় পেয়ে নিভে যাবে
একটা আস্ত জাতির হৃৎস্পন্দন।

কারফিউ তো কোনো শক্তির প্রতীক নয়;
ওটা আসলে কাঁপতে থাকা মসনদের এক
প্রকাশ্য ভীরুতার দলিল।
তোমরা রাজপথকে ভয় পাও,
খালি পায়ের শব্দকে ভয় পাও,
এমনকি অন্ধকার গলিতে
দেশলাইয়ের এক চিলতে আলো জ্বলে উঠলেও
তোমাদের সাঁজোয়া গাড়ির তলা কেঁপে ওঠে আতঙ্কে।

তোমাদের ওই সিলমোহর দেওয়া
রক্তমাখা নিষেধাজ্ঞার মুখে
আজ একদলা তাজা থুতু ছুড়ে ফেলে
রাজপথে নেমে এসেছে অবাধ্য তারুণ্য।
তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই;
আছে শুধু বুলেটের দিকে সরাসরি তাকানোর মতো
এক অদম্য ঘৃণা।
তোমরা যাদের ‘উচ্ছৃঙ্খল’ বলে
রাতের আঁধারে শিকার করতে চাও,
তারা আসলে তোমাদের চেয়ে
হাজার গুণ বেশি চেনে এই মাটির ঘ্রাণ।

সান্ধ্য আইনের কালো চাদর বিছিয়ে
তোমরা ঢাকতে চেয়েছিলে দিনের হত্যাযজ্ঞ।
ভেবেছিলে রাত নামলে ড্রেনের পানিতে ধুয়ে
সাফ করা যাবে মগজ আর রক্ত,
ভ্যানে তুলে গোপনে বেওয়ারিশ কবরে চালান করে
দেওয়া যাবে সত্যের লাশ।
কিন্তু তোমরা বোকার মতো ভুলে গেছ—
প্রতিটি বন্ধ জানালার পেছনে আজ জেগে আছে
একেকটি জ্বলন্ত চোখ,
প্রতিটি বারান্দা আজ রূপ নিয়েছে এক একটি
অতন্দ্র সাক্ষীর পাহারা চৌকিতে।

কাগজে লিখে রাত নামানো যায়,
কিন্তু ভোর আটকে রাখার মতো কোনো আইন
আজও তৈরি হয়নি।
তোমাদের জারি করা এই নিস্তব্ধতার বুক চিরে
কাল সকালেই আছড়ে পড়বে
লাখো মানুষের রুদ্র পদধ্বনি।
তখন এই কাগুজে কারফিউ
আর সাঁজোয়া ব্যারিকেড
খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে জনতার এক ফুঁয়ে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।