প্রেমের শায়েরী ২০২৬

প্রেমের শায়েরী ২০২৬

- কবি ও কাব্য

১.
ডিজিটাল দুনিয়া জুড়ে কত আলোর ঝলকানি,
সবাই কেবল দেখাচ্ছে—কে কতটা সুখে আছে।
অথচ মধ্যরাতে স্ক্রিনটা নিভে গেলে বোঝা যায়,
মানুষ আসলে কতটা কাঙাল হয়ে কারও একটু স্পর্শ খোঁজে।

২.
শহরটা এখন খুব হিসেবি, খুব দ্রুত দৌড়ায়,
এখানে ভালোবাসা মানেও চুক্তি আর লাভের অঙ্ক।
তারই মাঝে তুমি এমন এক মানুষ—
যার কাছে গেলে আমি সব জেতার লোভ ভুলে যাই।

৩.
আমরা কত হাজার মানুষের ভিড়ে প্রতিদিন হাঁটি,
নোটিফিকেশনে ভেসে আসে শত ব্যস্ততার ডাক।
অথচ এই সমস্ত কোলাহলের পেছনে
তোমার একটা ছোট দীর্ঘশ্বাসও আমার বুকে এসে বাঁধে।

৪.
অ্যালগরিদম হয়তো জানে মানুষ কী কিনতে চায়,
কোন লিংকে ক্লিক করলে কী বিক্রি হবে সস্তায়।
কিন্তু চোখের কোন কোণে কতটুকু কান্না লুকিয়ে আছে—
তা বোঝার ক্ষমতা আজও কোনো যন্ত্রের হয়নি।

৫.
ভুল মানুষও সুন্দর কথা বলতে পারে,
ভালোবাসার সাজানো বিজ্ঞাপন সাজাতে পারে খুব সহজে।
কিন্তু যে মানুষটি বিপদের দিনে হাতটা ছাড়েনি,
প্রেম আসলে সেখানেই বেঁচে থাকে—খুব নীরবে, কোনো শব্দ না করে।

৬.
আজকের এই পৃথিবীতে মানুষ সবকিছু বদলাতে চায়—
ফোন, বাড়ি, পেশা, এমনকী সম্পর্কের মুখও।
এমন সময়ে একজনের হাত ধরে সারাজীবন হেঁটে যাওয়ার জেদটাই
বোধহয় সবচেয়ে বড় বিপ্লব।

৭.
নেটওয়ার্কের তারে পৃথিবী এখন সেকেন্ডে কথা বলে,
দূরত্ব কমেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষ কাছে আসেনি।
হাজারটা ফ্রেন্ডলিস্টের ভিড়ে আজও এমন একজন মানুষ বিরল—
যার কাছে কোনো শর্ত ছাড়াই নিজের সমস্ত ভাঙচুর খুলে রাখা যায়।

.৮.
শহরের বাতাসে আজ ধুলো আর হিসেবের গন্ধ,
এখানে ভালোবাসা মানেও এক ধরনের বিনিয়োগ।
তার মাঝেই আমি তোমাকে এমনভাবে চেয়েছি—
যেখানে হারানোর কোনো ভয় নেই, জেতার কোনো অহংকার নেই।

৯.
লাইক আর কমেন্টের বন্যায় সবাই যখন নিজের মুখ সাজায়,
তখন অন্ধকার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একটা একলা ছায়াই সত্যি।
তুমি সেই আলো—যা কোনো স্ক্রিনে জ্বলে না,
অথচ বুকের গভীরে জমতে থাকা সমস্ত আঁধার এক পলকে মুছে দেয়।

১০.
স্মার্টফোন শিখিয়েছে সবকিছু খুব সহজে রিপ্লেস করা যায়,
এক ক্লিকেই বদলে ফেলা যায় দৃশ্য আর মানুষ।
তবু কিছু চোখ থাকে, যার সামনে এসে দাঁড়ালে
যন্ত্রের এই দুনিয়াটাও হঠাৎ থমকে গিয়ে মানুষ হতে শেখে।

১১.
প্রেম তো কোনো ট্রেন্ডি রিলস কিংবা স্ট্যাটাস নয়—
যা চব্বিশ ঘণ্টা পরেই হারিয়ে যাবে অতলে।
প্রেম হলো ট্রাফিকের জ্যামে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা মানুষটার কাছে
এক গ্লাস সাধারণ জলের মতো বিশ্বস্ত হয়ে থাকা।

১২.
পৃথিবী হয়তো আরও রোবোটিক হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ঢাকবে মন,
মানুষ ভুলতে বসবে কীভাবে নিজের বুক দিয়ে অন্যকে আগলাতে হয়।
সেদিনও যদি কেউ কারও জন্য নিঃশব্দে এক ফোঁটা জল ফেলে—
জেনে রেখো, ভালোবাসার সেই আদিম ব্যাকরণটাই জিতে যাবে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।