দিনের আলোর সামনে মানুষ বড় হিসেবি অভিনেতা।
সে নিখুঁতভাবে টাই বাঁধে, বাসের ভিড়ে লড়াই করে,
সহকর্মীর কৌতুক শুনে সশব্দে হাসে,
আর প্রমাণ করতে চায়—সে কত দৃঢ়, কত অপ্রতিরোধ্য।
পৃথিবী তাকে সফল ভাবে, সাহসী ভাবে, সংসারী ভাবে।
কিন্তু দিন ফুরিয়ে যখন রাত নামে,
দরজার ছিটকিনিটা আটকে যাওয়ার পর
মানুষের সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের সমস্ত প্রতিরক্ষা চূর্ণ হয়ে যায়।
অন্ধকারে কোনো দর্শক থাকে না।
সেখানে একা একলা মানুষটি
নিজের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়—সম্পূর্ণ নিরস্ত্র, রক্তাক্ত।
যে জল চোখ বেয়ে গড়ায়,
তার জন্য কোনো টিস্যু পেপার খরচ হয় না।
সে নিঃশব্দে শুষে নেয় তোশক আর তুলোর একটা নিস্তব্ধ বালিশ।
কোনো শব্দ হয় না, কোনো আর্তনাদ বাইরে যায় না;
শুধু বুকের গভীরে জমে থাকা বছরের পর বছর না-বলা অপমান,
অসহায় আপস আর একা বেঁচে থাকার ক্লান্তি
নোনা স্বাদ হয়ে কাপড়ের ভাঁজে জমাট বাঁধে।
বালিশ হলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত গোপন সাক্ষী।
সে কোনোদিন কাউকে বলে দেয় না—
দিনের বেলার সেই সিংহপুরুষটি
রাতের অন্ধকারে কতটা অসহায় শিশুর মতো কাঁপছিল।
সে নীরবে ভিজে ওঠে,
আর মানুষের বুকের ভেতরের আগুনটাকে
ধীরে ধীরে ঠান্ডা করে দেয়।
ভোরের আলো ফুটলে বালিশের সেই আর্দ্রতা শুকিয়ে যায়।
দাগ মুছে যায় বাতাসের পরশে।
মানুষটি আবার উঠে দাঁড়ায়, চোখে মুখে জলের ঝাপটা দেয়,
আর আয়নায় তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে ঝুলিয়ে নেয়
সেই চিরচেনা কৃত্রিম হাসি।
কেউ কোনোদিন জানতে পারে না—
আজকের এই সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য
গত রাতে
একটি বালিশের ভেতর কতটা মৃত্যুর মতো অন্ধকারকে ডুবিয়ে দিতে হয়েছিল।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।