শীত

পৌষের ভোরে অবিরাম কুয়াশা ঝরছে
সর্ষের ক্ষেতগুলি পথ আলো করছে
ঝাঁক ঝাঁক পাখি ডাক ওড়ে দূর সীমানায়
মনুষ্যকুল সব ওমপেতে কাঁথা টেনে ঘুমায়
মিঠে রোদ হাসে ঐ মাঠ ভরা ক্ষেতে
মন চায় গানখানি রাখালেরে দেতে

ঝিরঝির সমীরণ ধায় বন-বীথিকায়
মন মোর নাচে ঐ রূপালী গীতিকায়
কলকল নদী জল কুয়াশায় টলমল
গাছে গাছে পাখিসব কলরব চঞ্চল
কালশীতে, ক্ষণে ক্ষণে, চামর দুলায়
নদী কূলে সর্ষের ফুলদল হাতটি বুলায়

ঝিরঝির সমীরণ তবু ধীর অতি বহে না
মন মাঝে আশা জাগে মুখে কিছু কহে না
হাসি হাসি রাশি রাশি কুয়াশা দোলেরে
প্রকৃতির রূপ হেরি আঁখি দু'টি খোলেরে
ঝিকমিক দশদিক রোদ ওঠে সোনারঙ বরনে
হলদেটে পাতারা ঝরে পড়ে ধরণীর চরণে

মেঘদল চঞ্চল উড়বে না আর আকাশে
খেজুর রস টসটস ঘ্রাণ ছুটে ধরনীর বাতাসে
ঝির ঝির সমীরণ ছুঁয় বন বনানী
কান পেতে শোন ওই— শীতের কি রাগিণী!
ভেজা ঘাস, চারিপাশ, সর্ষের সুবাসে
সৃষ্টির মহিমা কি এই রূপে প্রকাশে!

ছুটে আয় মাঠে আয় বেলা আর নাই রে
রোদ্দুর হাসে দূর চিল ওড়ে বাইরে
মন মেলে চোখ মেলে রূপ দেখ ধরণীর
সাজ সাজ এই সাজ আধো আধো রজনীর
পাতা বন অনুক্ষণ সাদা ঢেউ খেলে রে
ছোট পাখি ডাকিডাকি গান গেয়ে চলে রে

বিল ঝিল খিলখিল পারিযায়ী পাখিডাকা দলে
মন হরে ক্ষণে ক্ষণে শীত আসে অমলে
ছুটে শীত পীত বন প্রানপন
হাওয়ায় ধরায় হাওয়ায় কাঁপন
খড়কুটো সন সন আগুন যে পোহালে
কুয়াশার চাদর ওড়ে হিমের চোয়ালে

রাত ভর ঝরঝর তুষার যে ঝরছে
স্নানের সময়টা শীত চেপে ধরছে
শীত শীত গীত গীত হাওয়া বয় বাহিয়া
ডাকে কুল মশগুল দশদিক চাহিয়া
মিঠে মিঠে তাজা তাজা রোদের পরশে
শীতবুড়ো এসে মেশে নানা রূপ হরষে

শীত ঝরে ঝরঝর পৌষের পরে
কাঁপে পাতা পত্তর থরথর থরে
শীত যেন বর্বর কাঁপে পাতা বন
পাতা খসানোর যেন সব আয়োজন
কনকন শনশন উত্তুরীয় হাওয়া বয় দূরে
শীত ছুট পীত বন গায় গান হিমেল সুরে

ঊর্ননাল বুনে বুনে কুয়াশা মাখায় তার অঙ্গে
কেঁপে কেঁপে ঝেপে ঝেঁপে শীত এলো বঙ্গে
পর পর থরথর শীত কারোর সয় না
কাঁপে বন লন্ঠন আলো কথা কয় না
গুল গুল মশগুল শীত কুল দঙ্গে
মাকড়সার জাল তারা বিছায় যে বঙ্গে

ধরফর করে বুক কাঁপে ভয় চোখ মুখ
পুকুর বা নদীর স্নানে নায় অজানা অসুখ
খিল্ খিল্ গিল গিল হাসে শিশু সদনে
রোদে বসে হাত শেঁকে পরম সে বোধনে
উত্তাল শৈবাল শ্যামস্বেতা অঙ্গ
কনকনে ঠান্ডা আহারে কি বঙ্গ


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।