যান্ত্রিক শহর

যান্ত্রিক শহর

- মোঃ আবু তালেব

লোহার চাকা ঘোরে,
সিগন্যালের লাল-সবুজ বাতি নিয়ম করে জ্বলে আর নেভে।
এই শহরে কোনো কিছু থামে না—
না অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন,
না মেট্রোর গতি,
না ফুটপাতে শুয়ে থাকা একলা কুকুরটার শীতের কাঁপুনি।

সবাই ছুটছে।
কারও হাতে ফাইল, কারও কাঁধে ভারী ব্যাকপ্যাক,
কারও মুঠোয় চেপে ধরা বাসের হ্যান্ডেল।
মানুষের চোখগুলোর দিকে তাকালে ভয় হয়—
সেখানে কোনো রাগ নেই, কোনো কান্না নেই, কোনো বিস্ময় নেই;
আছে কেবল পরবর্তী স্টপেজে নেমে পড়ার এক অন্ধ তাড়া।

এখানে মাটির কোনো ঘ্রাণ নেই।
গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাতের কংক্রিটের খাঁচায় বন্দি হয়ে,
প্রতিটি পাতায় ধুলোর পুরু আস্তরণ—
ঠিক যেমন মানুষের বুকের ভেতর জমে থাকে
বহুদিনের অপূর্ণ ক্লান্তির ছাই।

কাচের বহুতল ভবনে আলো জ্বলে মধ্যরাতেও।
ভেতরে বসে থাকা টাই-পরা যুবকটি
কিবোর্ডে আঙুল চালায় একটানা।
তার স্ক্রিনে হাজার কোটি টাকার লেনদেন ভেসে ওঠে,
অথচ ড্রয়ারে পড়ে থাকা প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কেনার টাকা
তার পকেটে থাকে না।

এই শহর কাউকে ভালোবাসে না,
আবার কাউকে তাড়িয়েও দেয় না।
সে কেবল মানুষের সমস্ত রক্ত আর ঘাম শুষে নেয়,
তারপর দিনশেষে তাকে উগরে দেয় একটা ছোট্ট অন্ধকার কামরায়—
যেখানে মানুষ বালিশে মাথা রেখে বুঝতে পারে:
সে আসলে বেঁচে নেই,
সে কেবল এই বিশাল কারখানার একটি সচল নাটবল্টু মাত্র।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।