স্মৃতির প্রবাস

স্মৃতির প্রবাস

- মোঃ আবু তালেব

দূরত্ব মাপতে গিয়ে মানুষ সমুদ্রের গভীরতা মাপে,
মাপে উড়োজাহাজের ডানার ক্লান্তি।
অথচ মানুষ সবচেয়ে বড় পরবাসী হয়ে যায় নিজেরই স্মৃতির ভেতর—
যেখানে বর্তমানের কোনো অধিকার নেই,
যেখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা আসলে
আজকের এই পৃথিবীতেই বাস করে না।

হাতঘড়িতে এখন বাজে স্থানীয় সময়,
কিন্তু বুকের ভেতরে যে ঘড়িটা নিঃশব্দে টিকটিক করছে—
সেখানে এখনও সেই বৃষ্টিভেজা গোধূলি,
যেখানে চায়ের কাপে চিনি বেশি দেওয়ার অভিযোগ ছিল,
যেখানে একটা রিকশার হুড ফেলে দিয়ে
ভিজে যাওয়ার বোকামিটুকু ছিল সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

স্মৃতি কোনো ছবি নয় যা দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা যায়;
স্মৃতি হলো এক নিষ্ঠুর নির্বাসনকেন্দ্র।
সেখানে বর্তমানের সব বাস্তবতা—
অফিসের ফাইল, বাড়িভাড়ার রসিদ, চেনা শহরের ট্রাফিক—
সব ঝাপসা হয়ে যায় এক লহমায়।
মানুষ শুধু দেখতে পায় সেই দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মুখটি,
যা বহু বছর আগে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।

আমরা নতুন শহর গড়ি, নতুন সম্পর্কে নাম লেখাই,
ভাবি—এবার হয়তো সব শূন্যতা ভরাট হয়ে যাবে।
কিন্তু মাঝরাতে যখন নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়,
তখন টের পাওয়া যায়—
দেহটা কেবল হেঁটে বেড়াচ্ছে এই নতুন মাটির ওপর,
আর আসল মানুষটি বন্দি হয়ে আছে
দশ বছর আগের এক বিকেলবেলার ছায়ায়।

স্মৃতির এই পরবাস থেকে কোনোদিন দেশে ফেরা যায় না।
কারণ যে দেশে মানুষ ফিরতে চায়,
সেই দেশ, সেই মানুষ, আর সেই সময়টা—
পৃথিবীর কোনো মানচিত্রেই আর অবশিষ্ট নেই।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।