বহুতল ভবনের ফাঁক দিয়ে
যেটুকু আকাশ দেখা যায়,
তার দাম অনেক।
রিয়েল এস্টেটের বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে—‘দক্ষিণমুখী বারান্দা, উন্মুক্ত বাতাস।’
মানুষ টাকা দিয়ে আসলে একটু শূন্যতা কিনতে চায়।
দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে
রিকশাচালক যখন সিটে শরীরটা এলিয়ে দেয়,
তার চোখ যায় ওপরের দিকে।
ধনী আর দরিদ্রের মাঝখানে এত দেয়াল,
এত পাহারা, এত কাঁটাতার—
অথচ এই ছাদহীন নীলটা
দুজনের ওপরই সমান নির্লিপ্ততায় ঝুলে থাকে।
আকাশের নিজের কিন্তু কোনো রং নেই।
আলো আর ধূলিকণার সংঘর্ষে
আমরা তাকে নীল বলে ভুল করি।
মানুষের বিশ্বাসগুলোও হয়তো এমনই—
ভেতরে প্রকাণ্ড শূন্যতা জেনেও
সে একটা রঙের ওপর ভরসা করে বাঁচতে চায়।
আমরা যখন খুব একা হই,
তখন মাটির দিকে তাকাই না,
তাকাই আকাশের দিকে।
সে কোনো সান্ত্বনা দেয় না,
কোনো প্রশ্নের উত্তরও ফিরিয়ে দেয় না।
তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—
সে মানুষের সমস্ত চিৎকার গিলে নিতে পারে,
একবিন্দু না নড়ে।
যে নীল কোনোদিন কাউকে ফেরায় না,
আবার কাউকে জড়িয়েও ধরে না—
তাকে ভালোবেসে মানুষ আসলে কী পায়?
হয়তো এইটুকু আশ্বাস:
সব কিছু হারিয়ে গেলেও,
মাথার ওপর এখনো হারিয়ে না যাওয়ার মতো একটা বিশাল বিস্তার বাকি আছে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।