মধ্যরাতের একাকীত্ব

মধ্যরাতের একাকীত্ব

- মোঃ আবু তালেব

দিনের বেলা মানুষ যা পাহারা দেয়,
রাত বারোটার পর তার সব দরজা খুলে যায়।
অফিসের মেকি হাসি, সামাজিক ভদ্রতা, সফলতার মুখোশ—
সব খুলে পড়ে থাকে খাটের নিচে, জুতোজোড়ার পাশে।
ঘরজুড়ে তখন শুধু একজন খাঁটি, পরাজিত মানুষ একা দাঁড়িয়ে থাকে।

চারিপাশে কোনো শব্দ নেই।
কেবল ফ্রিজের একটা দীর্ঘ একটানা গুঞ্জন
আর দূর রাজপথ দিয়ে হঠাৎ ছুটে যাওয়া কোনো একলা ট্রাকের চাকার ঘর্ষণ।
অন্ধকার কোনো কালো পর্দা নয়;
সে যেন এক বিশাল স্বচ্ছ কাচ—
যার সামনে দাঁড়ালে নিজের ফেলে আসা দিনগুলো
খুব নির্দয়ভাবে স্পষ্ট দেখা যায়।

ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিন অন করা হয়, আবার নিভিয়ে রাখা হয়।
নোটিফিকেশন প্যানেল সম্পূর্ণ ফাঁকা।
হাজারো মানুষের কনট্যাক্ট লিস্টে নাম আছে,
অথচ এই নিঃশব্দ প্রহরে
‘আমি ভালো নেই’—
এটুকু লিখে পাঠানোর মতো কোনো গন্তব্য পাওয়া যায় না।

স্মৃতিগুলো তখন চামড়ার নিচে পোকার মতো নড়াচড়া করে।
যে ভুলগুলোর কথা মানুষ ভুলে গেছে বলে দাবি করে দিনে,
তারা এসে বিছানার চারপাশে নিঃশব্দে বসে।
কাউকে একটু বেশি বিশ্বাস করার আক্ষেপ,
কাউকে ক্ষমা না করতে পারার অপরাধবোধ—
বাতাসটাকে এক নিমেষে বিষাক্ত করে তোলে।

মানুষ ঘুমোতে চায় ক্লান্তি মেটানোর জন্য নয়;
সে ঘুমোতে চায় নিজের উপস্থিতি থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে।
কারণ সে জানে—
পৃথিবীর যে-কোনো কারাগার থেকে পালানো সহজ,
কিন্তু মধ্যরাতে নিজের একলা মনের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে
ভয়ংকর শাস্তি মানুষের জন্য আর কিছুই হতে পারে না।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।