অশ্রুর জল

অশ্রুর জল

- মোঃ আবু তালেব

ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করলে এতে পাওয়া যাবে—
সামান্য জল, সোডিয়াম ক্লোরাইড, আর সামান্য প্রোটিন।
বিজ্ঞানের খাতায় এর চেয়ে বেশি কোনো মূল্য নেই।
অথচ এই কয়েক ফোঁটা তরল বহন করে আনে
একটি গোটা সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ার চেয়েও বড় ইতিহাস।

মানুষ যখন জন্মায়, কাঁদে।
সে কান্না পৃথিবীর বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ঘোষণা।
কিন্তু মানুষ যখন নীরবে কাঁদে মধ্যরাতে—
দরজা বন্ধ করে, বালিশে মুখ গুঁজে,
তখন সেই জলের প্রতিটি কণা এক-একটি অভিযোগপত্র।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?
সময়ের? নিয়তির? নাকি নিজের অক্ষমতার?

যে জল নদীতে বয়, সে জমি উর্বর করে।
যে জল বৃষ্টি হয়ে নামে, সে ধুলো ধুয়ে দেয়।
কিন্তু চোখের এই সামান্য নোনতা জল
মানুষের ভেতরটাকে শুকিয়ে মরুভূমি বানিয়ে ফেলে।
সে কোনো শব্দ করে না,
অথচ তার ভারে নুয়ে পড়ে সবচেয়ে অহংকারী ঘাড়ও।

আমরা সুখের সময় কত প্রতিশ্রুতি দিই,
কত বড় বড় দালান বানাই শব্দের।
কিন্তু দুঃখের দিনে সেই সব ভাষা হারিয়ে যায়।
মানুষের সমস্ত দর্শন, সমস্ত ব্যাকরণ এসে শেষ হয়
চোখের কোণে জমে থাকা একবিন্দু জলের কাছে।

এটা কোনো দুর্বলতা নয়।
এই জল আসলে প্রমাণ করে—
এই পাথুরে, নিষ্ঠুর, হিসেবি পৃথিবীর ভিড়েও
ভেতরের মানুষটি এখনো পুরোপুরি যন্ত্র হয়ে যায়নি।
তার কোথাও এখনো ব্যথা লাগে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।