না-বলা ব্যথা
- মোঃ আবু তালেব
যে ক্ষত থেকে রক্ত ঝরে,
তার জন্য ব্যান্ডেজ আছে, সহানুভূতি আছে,
ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধের নাম আছে।
সমাজ সেই আঘাতকে সম্মান দেয়,
কারণ তা চোখে দেখা যায়।
কিন্তু যে ব্যথা কোনো শব্দ তৈরি করে না,
তার কোনো সাক্ষ্য থাকে না।
অফিসের লিফটে দশজন মানুষের সাথে ওঠার সময়
বুকের ভেতর যে এক টুকরো ছাদ খসে পড়ে,
পাশের মানুষটি তার ধুলোও দেখতে পায় না।
সে শুধু দেখে—একজন পরিপাটি লোক নিঃশব্দে বোতাম টিপছে।
আমরা কত কিছু গিলে ফেলি রোজ।
অপমানের পর শান্তভাবে হাসা,
প্রিয় মানুষের অন্যায়ের পর চুপ করে ভাত খাওয়া,
কিংবা মধ্যরাতে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে
একটি দীর্ঘশ্বাসকে মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়া—
যাতে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটি জেগে না ওঠে।
এই না-বলা কথাগুলো হারিয়ে যায় না।
এরা জমতে থাকে মানুষের মেরুদণ্ডে,
চোখের নিচের কালো দাগে,
আর অসময়ে চুল পেকে যাওয়ার ভেতরে।
মানুষ বাইরে থেকে ঠিকই থাকে,
কিন্তু ভেতরে সে হয়ে ওঠে এক প্রাচীন ভগ্নস্তূপ।
সবচেয়ে ভারী বোঝা পাথর নয়,
সবচেয়ে ভারী হলো সেই সত্য—
যা কাউকে বলা যেত,
অথচ বলার মতো কোনো বিশ্বাসী কাঁধ এই শহরে পাওয়া যায়নি।
আমরা বেঁচে থাকি স্বাভাবিক মানুষের মতো অভিনয় করে।
অথচ প্রতিটি হাসির আড়ালে
একটি অতলান্ত নীরবতা চিৎকার করে বলে যায়—
কিছু কথা না বলাই থেকে গেল,
আর সেই না-বলা কথাগুলোই একদিন মানুষটাকে সম্পূর্ণ গিলে খেল।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।