একাকী দুপুর
- মোঃ আবু তালেব
রাতের একাকীত্বকে মানুষ চেনে।
তার জন্য গান আছে, কবিতা আছে, অন্ধকারের সান্ত্বনা আছে।
কিন্তু দুপুরের নির্জনতা সম্পূর্ণ অন্যরকম—
সেখানে কোনো অন্ধকার নেই,
চারিদিকে নির্মম, নির্লজ্জ রোদ।
খাবার টেবিলের ওপর পড়ে থাকে আধখাওয়া রুটি।
সিলিং ফ্যানের একটানা একঘেয়ে শব্দ
ঘরের বাতাসটাকে যেন আরও ভারী করে তোলে।
ঘড়ির কাঁটাটা এগোয় না,
কেবল ক্লান্ত পায়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পা ফেলে।
সবাই তখন কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত।
কেউ ব্যাংকের লাইনে, কেউ কারখানার মেশিনে, কেউ রাজপথের মিছিলে।
পৃথিবীটা যখন পুরোদমে ছুটছে,
তখন বন্ধ ঘরের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা
নিজেকে মনে করে এক অপ্রয়োজনীয় আসবাব।
যেন এই বিশাল চলমান সংসারের কোথাও তার আর কোনো ভূমিকা নেই।
একটি কাক এসে বসে উল্টোদিকের ছাদে।
তার দিকে তাকিয়ে মনে হয়—
বেঁচে থাকাটা কত সহজ হতে পারত,
যদি মানুষের এত অতীত আর এত ভবিষ্যৎ ভাবতে না হতো।
বর্তমান তো কেবল এই দুপুরটুকুই;
অথচ মানুষ এর ভেতর বয়ে নিয়ে বেড়ায়
দশ বছর আগের একটি ভুল সিদ্ধান্ত,
আর বিশ বছর পরের অনিশ্চিত ভয়।
রোদ ধীরে ধীরে হেলে পড়ে বারান্দার গ্রিলে।
আলো কমে আসে, কিন্তু ঘরের স্তব্ধতা কমে না।
এই নিঃশব্দ প্রহরে মানুষ বুঝতে পারে—
বাইরের কোলাহল আসলে একটা মস্ত বড় ফাঁকিবাজি;
মানুষের আসল সত্যিটা লুকিয়ে থাকে
এমনই কোনো রোদপোড়া, জনশূন্য, নিথর দুপুরে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।