স্মৃতির খাতা
- মোঃ আবু তালেব
পুরোনো আলমারির তলা থেকে
যে খাতাটা বের হয়ে আসে,
তার মলাটে কোনো ইতিহাসবিদের নাম লেখা থাকে না।
মলাটটা বিবর্ণ, কোণাগুলো উইপোকায় কাটা।
অথচ তার ভেতর বন্দি হয়ে আছে
একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া সময়।
সেখানে কোনো বড় যুদ্ধজয়ের কথা নেই।
আছে—প্রথম চাকরির ইন্টারভিউয়ের তারিখ,
ধার নেওয়া কিছু টাকার খসড়া হিসাব,
আর পাতার মার্জিনে অবহেলায় আঁকা কয়েকটি জ্যামিতিক নকশা—
যা হয়তো আঁকা হয়েছিল কোনো প্রিয় মানুষের ফোনের অপেক্ষায় বসে থেকে।
কালিগুলো ফিকে হয়ে গেছে।
অনেকটা মানুষের প্রতিশ্রুতির মতো;
সময়ের সাথে সাথে যা তার জোর হারায়,
কিন্তু পুরোপুরি মুছে যায় না।
যে মানুষটি একসময় এই পাতায় লিখেছিল তার সমস্ত ব্যাকুলতা,
আজ আয়নায় দাঁড়িয়ে সে নিজেই নিজেকে চিনতে পারে না।
খাতার সেই স্বপ্নগুলো কোথায় গেল?
তারা কি মরে গেছে, নাকি সংসারের বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে সস্তায়?
আমরা কত দলিল বানাই—জমির, ফ্ল্যাটের, শেয়ার বাজারের।
রাষ্ট্র সেই কাগজগুলোকে খুব দামি মনে করে।
অথচ মানুষের আসল দলিল তো এই ছেঁড়া খাতাটাই,
যেখানে কোনো আইনের ধারা নেই,
আছে কেবল তার বেঁচে থাকার, ভুল করার আর ঠকে যাওয়ার খাঁটি প্রমাণ।
খাতাটা বন্ধ করে রেখে দিলে ধুলো ওড়ে।
মানুষের জীবনটাও হয়তো তেমনই—
আমরা কত পৃষ্ঠা পার করে চলে আসি সামনের দিকে,
ভাবি সব ফেলে এসেছি।
অথচ একটা পুরোনো গন্ধ নাকে লাগলেই
মুহূর্তে টের পাওয়া যায়—
আমরা আসলে সামনে এগোইনি,
কেবল পৃষ্ঠা উল্টে গেছি।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।