বাসের কালো ধোঁয়া আর গরম সাইলেন্সারের ভেতর
দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি চাকা।
কেউ এগোচ্ছে না।
সিগন্যালের আলোটা কতবার লাল হলো আর সবুজ হলো—
তার কোনো হিসেব নেই।
লোহা আর টিনের এই স্তূপের ভেতর
আটকে পড়ে আছে হাজার হাজার মানুষের ব্যক্তিগত সময়।
গরমে গায়ের শার্ট ভিজে চিটচিটে হয়ে গেছে।
সিটের হাতলটা ধরে ঝুলতে থাকা মানুষটির
ঘাড়ের রগ ফুলে ওঠে ক্লান্তিতে।
তার চোখে কোনো ভবিষ্যৎ নেই;
তার সমস্ত ধ্যান এখন কেবল সামনের দুই গজ জায়গা খালি পাওয়ার দিকে।
মানুষ কীভাবে এমন একটা প্রাণীতে পরিণত হলো—
যেখানে প্রতিদিন তার জীবনের সেরা দুটো ঘণ্টা
উৎসর্গ করতে হয় কেবল স্থবিরতার বেদীতে?
পাশেই কাচঘেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি।
ভেতরে সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে একজন ক্ষমতাধর লোক,
অথচ তার গাড়িটাও একই পিচের রাস্তায় বন্দি।
এই জ্যামটাই হয়তো শহরের একমাত্র সাম্যবাদী জায়গা—
যেখানে কোটি টাকার গাড়ি আর দশ টাকার লোকাল বাস
একই নরকে দাঁড়িয়ে একসাথে ঘামে।
জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় একটা কঙ্কালসার শিশু—
এক গোছা রজনীগন্ধা বিক্রির আশায়।
ফুলের তাজা গন্ধটা পিষে যায় বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডে।
কেউ ফুল কেনে না;
সবাই কেবল বিরক্তির সাথে জানালার কাচটা আরও শক্ত করে তুলে দেয়।
আমরা কোথায় পৌঁছাতে চেয়েছিলাম?
অফিসে? ঘরে? নাকি সফলতার কোনো সোনার পাহাড়ে?
চাকা যখন এক ইঞ্চিও ঘোরে না,
তখন বুকের ভেতর থেকে একটা নিস্তব্ধ প্রশ্ন উঠে আসে—
শহরের রাস্তাগুলো কি জ্যামে আটকে গেছে,
নাকি আমাদের জীবনটাই এই পিচের ওপর চিরতরে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল?
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।