সন্ধ্যা নামলে এই শহর আর সূর্যের ওপর ভরসা রাখে না।
দোকানের সাইনবোর্ড, বহুতল ভবনের চূড়া আর শপিংমলের কাচজুড়ে
জ্বলে ওঠে লাল, নীল, বেগুনি আর কৃত্রিম হলুদ।
বিজ্ঞাপনগুলো মানুষকে ডাকছে—
‘এটা কেনো, ওটা পরো, তবেই তুমি সুখী হবে।’
এই নিয়ন আলো অন্ধকার তাড়াতে আসেনি;
এ এসেছে সত্যকে গোপন করতে।
আলোর এই চড়া প্রসাধন না থাকলে
দেখা যেত ফুটপাতের ভাঙা ম্যানহোল,
দেখা যেত প্লাস্টিকের তাঁবুতে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারগুলোর ধুলোবালি,
আর দেখা যেত—মানুষের চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা গভীর ক্লান্তি।
ঝলমলে বিলবোর্ডের ঠিক নিচেই
বসে আছে ঝালমুড়িওয়ালা।
তার তেলের টিনের ওপর এসে পড়ে নিয়ন নীল আভা।
মুহূর্তের জন্য মনে হয়, সেও বুঝি কোনো উৎসবের অংশ।
অথচ তার পকেটের খুচরো পয়সাগুলো
কালকের চালের দাম মেটাতে পারবে কি না,
সেই অন্ধকারের খবর নিয়ন গ্যাস জানে না।
কৃত্রিম আলো মানুষের ছায়াকেও ছোট করে দেয়।
আলো এত বেশি চারিদিক থেকে আসে যে,
নিজের ছায়াটাই আর স্পষ্ট খুঁজে পাওয়া যায় না।
মানুষ নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে
অন্যের তৈরি করা রঙের গোলকধাঁধায়।
আমরা এই চকচকে কাচ আর আলোর দিকে তাকিয়ে ভাবি—শহর এগোচ্ছে।
অথচ আলো যত তীব্র হয়,
মানুষের নিঃসঙ্গতা তত বেশি নগ্ন হয়ে পড়ে।
সবাই দেখছে শহরের এই উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন,
কিন্তু কেউ দেখছে না—
সবচেয়ে বেশি আলো যেখানে জ্বলছে,
তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে সবচেয়ে অন্ধকার এক ফাঁকা প্রান্তর।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।