নীরবতা

নীরবতা

- মোঃ আবু তালেব

শব্দ থেমে গেলেই নীরবতা তৈরি হয় না।
ট্রাফিকের হর্ন, কারখানার সাইরেন, মাইকের চিৎকার—
এগুলো বন্ধ হলে কেবল কান কিছুটা বিশ্রাম পায়।
কিন্তু আসল নীরবতা তৈরি হয় মানুষের চোখের সামনে,
যখন বলার মতো অনেক কথা থাকে,
অথচ বলার মতো মানুষটা আর বেঁচে থাকে না;
কিংবা বেঁচে থেকেও অচেনা হয়ে যায়।

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নিঃস্ব মানুষটির নীরবতা,
হাসপাতালের করিডোরে ডাক্তারের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা পিতার নীরবতা,
আর ডিভোর্সের কাগজে সই করার ঠিক আগের মুহূর্তের নীরবতা—
এদের কোনো পরিমাপক যন্ত্র নেই।
অথচ এই স্তব্ধতাগুলো যেকোনো বিস্ফোরণের চেয়েও তীব্র।

আমরা শব্দ তৈরি করি ভয় পেয়ে।
গান গাই, আড্ডা দিই, রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক করি—
কেবল একটি আতঙ্ক থেকে:
যদি হঠাৎ সব থেমে যায়,
তবে নিজের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।
আর নিজের মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেয়ে বড় ভয়
মানুষের ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই।

নীরবতা কোনো শূন্যস্থান নয়।
সে এক ভীষণ জীবন্ত উপস্থিতি।
সে মানুষের কাছে জানতে চায়—
এত দৌড়ঝাঁপ, এত অর্জন, এত সঞ্চয়ের পর
আজকের এই দিনটিতে তুমি আসলে কে?

যে ঘরে দুজন মানুষ বহু বছর ধরে একসাথে থাকে,
অথচ কোনো কথা বলে না,
সে ঘরে নীরবতা বাতাসের মতো ভারী হয়ে জমে থাকে।
তারা বুঝতে পারে—
শব্দ দিয়ে মানুষ ঘর বাঁধে বটে,
কিন্তু সেই ঘর যখন ভাঙতে শুরু করে,
তখন একটিও ইট পড়ার শব্দ শোনা যায় না।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।