ব্যাংকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কাউন্টারে
ক্যাশিয়ার যখন টাকাগুলো গুনছে—
খটখট শব্দে মেশিনের ভেতর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে কড়কড়ে পাঁচশো আর হাজার টাকার নোট।
দেশ তাকে নাম দিয়েছে ‘রেমিট্যান্স’;
অর্থনীতির পাতায় লেখা হয় প্রবৃদ্ধির গ্রাফ,
টেলিভিশনের পর্দায় বিশেষজ্ঞরা বাহবা দেয় রিজার্ভের উচ্চতা দেখে।
অথচ এই কাগজের গায়ে আতসকাচ ধরলে
কোনো সংখ্যার চিহ্ন পাওয়া যাবে না।
পাওয়া যাবে—পঞ্চাশ ডিগ্রি রোদে মরুভূমির বালিতে গলে পড়া চামড়ার পোড়া দাগ,
পদ্মা আর মেঘনার ওপারের এক বুড়ো বাবার বন্ধকী জমি ছাড়ানোর আর্তনাদ,
আর ছোট বোনের বিয়ের জন্য যৌতুকের অলিখিত হিসাব।
এই নোটগুলোর কোনো সুবাস নেই।
এদের প্রতিটি সুতোয় লেগে আছে
উঁচু ভবনের মাচা থেকে পা পিছলে পড়ার চাপা আতঙ্ক,
পুলিশের সাইরেন শুনে লুকিয়ে থাকার অবমাননা,
আর বারো ঘণ্টা ওভারটাইম শেষে
অর্ধেক রুটি আর ডাল খেয়ে দিন কাটানোর নির্লজ্জ সত্য।
দেশে যখন সেই টাকা পৌঁছায়,
সংসারে রঙের পোঁচ পড়ে, বাজারে কেনাকাটা বাড়ে,
দোকানদার হাসিমুখে বাকি খাতার নাম কেটে দেয়।
সবাই আনন্দ পায়;
শুধু কেউ একবারও জিজ্ঞেস করে না—
এই টাকার রঙ কেন এত লালচে?
কেন এই কাগজের প্রতিটি ভাঁজ থেকে
এখনও মানুষের নোনতা রক্তের গন্ধ ভেসে আসে?
রাষ্ট্র যাদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলে বীরের মেডেল পরায় দূর থেকে,
বিমানবন্দরে লাশ হয়ে ফেরার পর
তাদের কফিনের কাঠের দামটাও এই টাকার সমান হয় না।
নোটগুলো সচল থাকে, এক হাত থেকে অন্য হাতে ঘোরে;
শুধু মানুষটা নিঃশব্দে ফুরিয়ে যায়
অন্যের সংসারটাকে সচল রাখার দায় কাঁধে নিয়ে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।