মরুভূমির এই শহরে কোনো মাটির সোঁদা ঘ্রাণ নেই।
এখানে দিনরাত চলে সেন্ট্রাল এসির কনকনে হাওয়া,
আর রাসায়নিক রুম-ফ্রেশনারের কৃত্রিম সুবাস।
সবকিছু এত বেশি পরিষ্কার, এত বেশি জীবাণুমুক্ত—
যে নিঃশ্বাস নিতে গেলে বুকের ভেতরটা ফাঁকা লাগে।
ডিউটি শেষে এই আট বাই দশ ফুটের লেবার ক্যাম্পে ফিরে
যখন ক্লান্ত শরীরটা চারতলার বাংক-বেডে এলিয়ে দিই,
তখন বন্ধ ঘরের দেয়ালে হঠাৎ ধাক্কা মারে অন্য এক বাতাস।
কোনো পারফিউম নয়,
না কোনো দামি প্রসাধন;
সে যেন পুরোনো একটা সুতির শাড়ির গন্ধ—
যা বারবার ধোয়ার পর রোদে শুকিয়ে গেলেও
তার আঁচলে আটকে থাকে ভাতের ফ্যান, হলুদ বাটা আর এক চিমটে আদরের স্মৃতি।
ট্রাঙ্কের তলায় যত্ন করে রাখা আছে মায়ের দেওয়া নকশিকাঁথা।
গরমের দিনেও মাঝে মাঝে সেটা গায়ে জড়িয়ে নিই।
লোকে ভাবে পাগলামি।
তারা জানে না—এই কাঁথার প্রতিটি ফোঁড়ের ভেতর
শুয়ে আছে শৈশবের সেই অন্ধকার রাতগুলো,
যেখানে বাইরে ঝড় উঠলে
মা কেবল তার বুকটা দিয়ে আমাদের সমস্ত ভয়কে আড়াল করে রাখত।
ভিডিও কলের স্ক্রিনে মা যখন তাকায়,
তার চোখের নিচের কালচে চামড়াগুলো ডিজিটাল আলোয় বড় করুণ দেখায়।
মা হাসে, বলে—‘আমি ভালো আছি বাপ, তুই ঠিকমতো খাস তো?’
মুঠোফোনের স্পিকারে কোনো গন্ধ আসে না;
শুধু স্ক্রিনের ওপর একটা নোনতা জলের ফোঁটা পড়ে
মায়ের মুখটাকে এক পলকে ঝাপসা করে দেয়।
আমরা এখানে বহুতল টাওয়ার বানাই,
অন্যের দেশকে সোনার মতো চকচকে করে সাজিয়ে দিই।
অথচ নিজেদের আয়ু ফুরিয়ে যায়
এই ঠান্ডায় জমে থাকা অচেনা ঘরে—
একটু চেনা আঁচলের গন্ধ বুকভরে নেওয়ার কাঙাল হয়ে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।