ভিডিও কলের মনখারাপ

ভিডিও কলের মনখারাপ

- মোঃ আবু তালেব

ডিসপ্লেতে আলো জ্বলে উঠলেই
মুখের ওপর একটা চটজলদি হাসির প্রলেপ মেখে নিতে হয়।
চোখের নিচের ক্লান্তিকে নেটওয়ার্কের কম রেজল্যুশন বলে চালিয়ে দেওয়া যায়,
আর গলার ভেজা স্বরটাকে আড়াল করা যায়
‘এখানে একটু ঠান্ডা পড়েছে’—এই চিরচেনা অজুহাতে।

ছয় ইঞ্চির এই আলোকিত কাচের ভেতর
দুটো জীবন পাশাপাশি ঝুলতে থাকে।
ওপাশে ঘরের চেনা সিলিং ফ্যানটা ঘোরে,
বাচ্চার আধো আধো কথা ভেসে আসে স্পিকারে;
আর এপাশে বসে থাকা মানুষটা
হাত বাড়িয়ে দেয় স্ক্রিনের দিকে।
কিন্তু কাচ কেবল ঠান্ডাই ফিরিয়ে দেয়,
কোনো রক্তমাংসের উষ্ণতা তার স্পর্শে থাকে না।

সবচেয়ে কঠিন হলো কলটা কেটে যাওয়ার ঠিক পরের সেকেন্ডটি।
স্ক্রিন যখন হঠাৎ কালো হয়ে যায়,
তখন সেই অন্ধকার কাচে নিজেরই একটা নিস্তব্ধ, পরাজিত প্রতিবিম্ব ভেসে ওঠে।
ঘরের বাতাস হঠাৎ দ্বিগুণ ভারী হয়ে চেপে বসে বুকে।
মনে হয়, এইমাত্র এক পলকের জন্য নিজের বাড়ি গিয়েছিলাম,
আর মুহূর্তেই কেউ ঘাড় ধরে আবার ছুঁড়ে ফেলে দিল
এই ভিনদেশি নিঃসঙ্গতার কারাকক্ষে।

প্রযুক্তি দূরত্ব কমিয়েছে বলে যারা অহংকার করে,
তারা জানে না—এই ডিজিটাল নৈকট্য আসলে বিরহের তীব্রতাকে আরও কত বাড়িয়ে দেয়!
চিঠির যুগে অন্তত না-দেখার এক অদ্ভুত শান্তি ছিল;
আজ তো চোখের সামনে প্রিয় মানুষটিকে দেখা যায়,
অথচ তার কান্না মুছে দেওয়ার মতো কোনো হাত থাকে না।

আমরা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি,
যেখানে মানুষ থাকে, মুখ থাকে, হাসির শব্দ থাকে—
শুধু বেঁচে থাকার আসল সত্যটুকু
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত দিয়ে
নিঃশব্দে হারিয়ে যায় অন্ধকারে।


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।