দুঃসময় কোনো সাইরেন বাজিয়ে আসে না।
সে আসে খুব স্বাভাবিক পায়ে—
চায়ের কাপের দাম এক টাকা বেড়ে যাওয়ার মতো,
কিংবা প্রিয় মানুষটার মেসেজের উত্তর দিতে এক ঘণ্টা বেশি দেরি করার মতো।
মানুষ প্রথমে টেরই পায় না যে,
মাটির নিচে ফাটল ধরতে শুরু করেছে।
তারপর একদিন দেখা যায়—
হাসপাতালের কাচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি
নিজের সঞ্চয়ের শেষ পাসবইটার দিকে তাকিয়ে কাঁপছে।
অথবা দেখা যায়,
পঁচিশ বছর যে সংস্থাকে রক্ত-ঘাম দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল,
তারা মাত্র এক লাইনের একটা ইমেলে জানিয়ে দিয়েছে:
‘আগামীকাল থেকে আপনার আর আসার প্রয়োজন নেই।’
দুঃসময়ের সবচেয়ে বড় লক্ষণ কোনো মহামারী বা যুদ্ধ নয়;
দুঃসময় হলো যখন পরিচিত মানুষের চোখগুলো হঠাৎ কাচের মতো নির্লিপ্ত হয়ে যায়।
যাদের কাঁধে হাত রেখে দুনিয়া জয়ের স্বপ্ন দেখা যেত,
রাস্তায় দেখা হলে তারাই আগেভাগে ফোন কানে তুলে ব্যস্ততার ভান করে।
মানুষ তখন বুঝতে পারে—
পৃথিবীতে একা হওয়া কোনো সাজা নয়,
একা হওয়াই হলো মানুষের আসল ও চূড়ান্ত রূপ।
আমরা ভাবি সুদিন ফিরবে।
ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায়, ঋতু বদলায়, সরকার বদলায়।
কিন্তু যে লোকটার বুক ভেঙে গেছে একবার,
তার ক্যালেন্ডার চিরতরে একটি নির্দিষ্ট তারিখে এসে আটকে থাকে।
দুঃসময় মানুষকে ধ্বংস করে না;
দুঃসময় কেবল মানুষের চোখের সামনে থেকে সমস্ত প্রসাধন আর মায়া ধুয়ে দেয়।
তারপর আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে
খুব নিষ্ঠুর গলায় প্রশ্ন করে—
‘এতদিন যাদের নিয়ে অহংকার করেছিলে,
তাদের বাদ দিলে তোমার নিজের ভেতরে
আসলে কতটুকু মানুষ অবশিষ্ট থাকে?’
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।