রাজারা পাথরে নিজেদের নাম খোদাই করে রেখে যায়,
ভয়ে—পাছে তুমি তাদের ভুলে যাও।
তারা স্তম্ভ তোলে, মানচিত্রে দাগ কাটে, রক্তের দাগকে ইতিহাস বলে লিখে রাখে;
যেন বাধ্য হয়ে তোমাকে তাদের হিসাব রাখতে হয়।
আমার কোনো পাথর নেই, পৃথিবী।
আমার আছে একজোড়া ক্ষয়ে যাওয়া জুতো,
লোকাল বাসের লোহার হাতলে রেখে আসা কিছু আঙুলের ছাপ,
আর মাসের শেষে হিসেব না মেলা একটি ছেঁড়া কাগজের টুকরো।
তুমি তো বড় বড় ধ্বংসের নাম মুখস্থ রাখো,
বড় বড় নির্মাণের তালিকা সাজাও,
মুদ্রার দাম আর পতাকার বদল গুনে রাখো সতর্ক পাহারা দিয়ে।
কিন্তু যে মানুষটা প্রতিদিন ভোরে কুয়াশার ভেতর নেমেছিল
কেবল দুটো ভাতের সন্ধানে,
তার নীরবতার কি কোনো ওজন রেখেছ কোথাও?
ইতিহাসের দৃষ্টি বড় অদ্ভুত—
সে ভিড় দেখতে পায়, কিন্তু মানুষকে দেখতে পায় না।
সে বিজয়ীর তরবারি চেনে,
চেনে না সেই হাত, যা দিনমজুরের মতো সারাদিন কেবল মাটির নিচে কাজ করে গেল।
আমি কোনো সাম্রাজ্য চাইতে আসিনি।
আমি চেয়েছিলাম শুধু একটি দিন,
যেখানে খাবারের থালার পাশে কোনো অপমান বসে থাকবে না।
আমি চেয়েছিলাম একটি সাধারণ ছাদ,
যার নিচে দাঁড়িয়ে অন্তত একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলা যায়—
“আমি ভালো আছি।”
কাল যদি ট্রাফিকের কোনো সিগন্যালে আমার ছায়াটা আর না পড়ে,
তুমি কি এক সেকেন্ডের জন্য থেমে যাবে?
নাকি তোমার চাকাগুলো গড়িয়ে যাবে ঠিক আগের মতোই—
যেন কেউ কোনোদিন ছিলই না?
আসলে, মনে রাখা বা ভুলে যাওয়া তো অনেক পরের প্রশ্ন।
তুমি কি একবারও জানতে চেয়েছিলে, আমি কী বলতে চেয়েছিলাম?
আমি তো কোনো সমাধান হতে আসিনি,
আমি ছিলাম বেঁচে থাকার তীব্র চাপে মাঝপথে থেমে যাওয়া এক প্রশ্ন—
একটি অসমাপ্ত বাক্য,
যার শেষ শব্দটা তুমি আজও উচ্চারণ করতে শেখোনি।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করতে হলে
লগইন
করুন।
মন্তব্যসমূহ (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই।