রাষ্ট্রের কাছে একটি শিশুর প্রশ্ন

রাষ্ট্রের কাছে একটি শিশুর প্রশ্ন

- মোঃ আবু তালেব

স্কুলের বইয়ে পড়েছিলাম—
তুমি নাকি আমাদের অভিভাবক।
বইয়ের প্রথম পাতায় একটা সবুজ মানচিত্র ছিল,
আর শিক্ষকের মুখে শুনেছিলাম—এই মাটি সবার।

কিন্তু রাস্তায় তোমাকে আমি যেভাবে দেখি,
বইয়ের ছবির সঙ্গে তার কোনো মিল পাই না।

আমি তোমাকে দেখি সাইরেন বাজানো কালো গাড়ির বহরে,
যার ভয়ে রাস্তার ট্রাফিক থমকে দাঁড়ায়।
আমি তোমাকে দেখি শক্ত বুট আর উঁচিয়ে ধরা ব্যারিকেডে,
যেখানে অনুমতি ছাড়া কারও দাঁড়ানোর অধিকার নেই।

রাষ্ট্র, তুমি কি কেবল তাদেরই শোনো—
যাদের গলার আওয়াজ খুব চড়া,
আর যাদের মাইকের সামনে দাঁড়ালে হাততালি দেওয়ার লোক থাকে?

আমাদের ঘরের টিনের চাল চুইয়ে যখন বৃষ্টির পানি পড়ে,
বাবা যখন চালের দাম শুনে বাজারের কোণে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে,
কিংবা মা যখন ওষুধের স্লিপটা লুকিয়ে রেখে বলে—‘আমার শরীর ভালো আছে’—
তখন তোমার সেই বিশাল চোখ কোথায় তাকায়?

টেলিভিশনের খবরে শুনি—তুমি নাকি অনেক বড় হয়েছ,
মাটির ওপর উড়ালসড়ক আর মাটির নিচে ট্রেন বানিয়েছ।
তোমার এত হিসাব, এত নজরদারি, মোড়ে মোড়ে এত ক্যামেরা—
অথচ আমার খাতার শেষ পাতাটা শেষ হয়ে গেলে
নতুন খাতা কেনার জন্য বাবাকে সাত দিন ভাবতে হয় কেন?

তোমরা বড় বড় মানুষরা যখন টেবিলে বসে দেশ নিয়ে কথা বলো,
তখন কি তোমরা আমাদের দেখতে পাও?
নাকি দূর থেকে তাকালে মানুষ আর মানুষ থাকে না—
কেবল কতগুলো সংখ্যা হয়ে যায়?

আমি কোনো ভাষণ বুঝি না, কোনো রাজনীতি চিনি না।
আমার প্রশ্নটা খুব ছোট, রাষ্ট্র—

তোমরা যাদের জন্য এত আইন, এত কারাগার, এত আদালত সাজিয়েছ,
তাদের একজন যদি মাঝপথে খিদের চোটে হারিয়ে যায়,
তোমার সেই বিশাল মানচিত্রে কি কোথাও
এক ফোঁটা দাগ পড়ে?


শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন।


মন্তব্যসমূহ (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই।