কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

ওয়েস্টফেলিয়ায় এলো আধুনিকতা
ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশনে মানবাধিকার
পশ্চিমা সূর্যে এলো রেনেসাঁর রূপসি রোদ
কলোনিতে আলোকায়ন এলো কিরণের নামে
তারপর তো শুধু সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতা!

প্রিন্স অব ওয়েলসে ঘোষণা হলো-
গণহত্যা গিলে খাবে না দুনিয়ারে আর
অতঃপর হলোকাস্টের হাঁপর নিভায়ে
শান্তির সুনামি আনল আটলান্টিক সভ্যতা!

এরপর? সত্তর বছর ধরে
তাফালের তুষ হলো প্রাচ্য
লাভায় লালশাক হয়ে গেল পুবের আকাশ
জেরুসালেম হয়ে গেল জল্লাদের জলসাঘর!

সভ্যতার এ শ্বেত শতাব্দীতে
গাজায় বারুদ নাচে উদ্দাম বিমানে
সহস্র সংসার হয়ে যায় প্রকাশ্য হিরোশিমা
চাম্বল পাতার মতো উড়ে যায় শিশুদের প্রাণ
মায়েরা খুলি কুড়িয়ে জোড়া দেয় ছিন্নভিন্ন মাথা
রক্তের ফিনকিতে ছিঁড়ে যায় আজরাইলের খাতা।

ওয়েস্টফেলিয়ায় এলো আধুনিকতা

হে সীমান্তের শকুন
এক্ষুনি ছিঁড়ে খাও আমাকে
হে আটলান্টিকের ঈগল
শিগগির খুবলে খাও আমাকে
হে বৈকাল হ্রদের বাজ
আঁচড়ে কামড়ে ছিন্নভিন্ন করো আমাকে।

আমার রক্তরসে শুধু অসহায়ত্ব আর অভাব;
কাগজের কামলারা তারে আদর করে মুদ্রাস্ফীতি ডাকে।
ঋণের চাপে নীল হয়ে যাচ্ছে আমার অণুচক্রিকা
সংসার চালাতে অন্তরে হয় ইন্টারনাল ব্লিডিং
কী আশ্চর্য, তবুও আমি মরছি না!

ওদিকে দোজখের ভয়ে
আত্মহত্যা করবারও সাহস পাই না আমি!
খোদাকে বললাম, আমি মরতে চাই
তিনি বললেন, বেঁচে আছ কে বলল?
সহস্রাব্দ উন্নয়নের সাক্ষী হিসেবে
রাজা তোমাকে মমি করে রেখেছেন!
বাজারে দীর্ঘশ্বাস ফেললে নাকি
রাজ্যের ভীষণ বদনাম হয়
রাজারও মন খারাপ হয় খুব।

কোতোয়ালরা ফরমান জারি করেছে
আমাকে সারাক্ষণই হাসতে হবে!
নইলে দেশি কুকুর ও বিদেশি মাগুরকে
একবেলা ভালোমন্দ খাওয়ানো হবে আমার মাংস দিয়ে
নিত্যদিন ব্রয়লারের ভুঁড়ি নাকি ওদের ভাল্লাগে না!
অথবা আমাকে ভাগ দিয়ে বেচা হবে
মানুষেরও তো মানুষ খাওয়ার সাধ হতে পারে, তাই না?

ভাগ্যিস তা বিদেশি সুপারশপে বিকি হবে না
দেশি মানুষেরই তো হক বেশি আমাকে খাওয়ার!
এ দোজখই যখন নিয়তি
তখন আমি উদাম হয়ে ডাকছি
দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মাংসাশী বিহগদের
হে ঈগল, চিল ও ভয়ংকর বাজেরা
হে সাম্রাজ্যবাদী সাহসী শকুনিরা
তোমরা এফ-থার্টি ফাইভের মতো
মিগ টুয়েন্টি নাইনের মতো—
দল বেঁধে হামলে পড়ো আমার বুকে
আমার রান, থান, চক্ষু, কলিজা
আজ সব তোমাদের গনিমতের মাল
দেশি শুয়োর খুবলে খাওয়ার আগেই
আমায় ইচ্ছেমতো ছিঁড়ে খাও তোমরা!
দোহাই, শুধু মস্তিষ্কটা খেয়ো না আমার
তা হলে শীঘ্রই দাস হয়ে যাবে তোমরাও।

আমায় ছিঁড়ে খাও হে শকুন

এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না
একবার তোমাকে দেখতে পাবো
এই নিশ্চয়তাটুকু পেলে-
বিদ্যাসাগরের মতো আমিও সাঁতরে পার
হবো ভরা দামোদর
… কয়েক হাজার বার পাড়ি দেবো ইংলিশ চ্যানেল;
তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে
অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর,
ছুটে যবো নাগরাজ্যে পাতালপুরীতে
কিংবা বোমারু বিমান ওড়া
শঙ্কিত শহরে।
যদি জানি একবার দেখা পাবো তাহলে উত্তপ্ত মরুভূমি
অনায়াসে হেঁটে পাড়ি দেবো,
কাঁটাতার ডিঙাবো সহজে, লোকলজ্জা ঝেড়ে মুছে
ফেলে যাবো যে কোনো সভায়
কিংবা পার্কে ও মেলায়;
একবার দেখা পাবো শুধু এই আশ্বাস পেলে
এক পৃথিবীর এটুকু দূরত্ব
আমি অবলীলাক্রমে পাড়ি দেবো।
তোমাকে দেখেছি কবে, সেই কবে, কোন বৃহস্পতিবার
আর এক কোটি বছর হয় তোমাকে দেখি না।

এক কোটি বছর তোমাকে দেখি না

প্রতিটি ব্যর্থ প্রেমই আমাকে নতুন অহঙ্কার দেয়
আমি মানুষ হিসেবে একটু লম্বা হয়ে উঠি
দুঃখ আমার মাথার চুল থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত
ছড়িয়ে যায়
আমি সমস্ত মানুষের থেকে আলাদা হয়ে এক
অচেনা রাস্তা দিয়ে ধীরে পায়ে
হেঁটে যাই
সার্থক মানুষদের আরো-চাই মুখ আমার সহ্য হয় না
আমি পথের কুকুরকে বিস্কুট কিনে দিই
রিক্সাওয়ালাকে দিই সিগারেট
অন্ধ মানুষের শাদা লাঠি আমার পায়ের কাছে
খসে পড়ে
আমার দু‘হাত ভর্তি অঢেল দয়া, আমাকে কেউ
ফিরিয়ে দিয়েছে বলে গোটা দুনিয়াটাকে
মনে হয় খুব আপন
আমি বাড়ি থেকে বেরুই নতুন কাচা
প্যান্ট শার্ট পরে
আমার সদ্য দাড়ি কামানো নরম মুখখানিকে
আমি নিজেই আদর করি
খুব গোপনে
আমি একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ
আমার সর্বাঙ্গে কোথাও
একটুও ময়লা নেই
অহঙ্কারের প্রতিভা জ্যোতির্বলয় হয়ে থাকে আমার
মাথার পেছনে
আর কেউ দেখুক বা না দেখুক
আমি ঠিক টের পাই
অভিমান আমার ওষ্ঠে এনে দেয় স্মিত হাস্য
আমি এমনভাবে পা ফেলি যেন মাটির বুকেও
আঘাত না লাগে
আমার তো কারুকে দুঃখ দেবার কথা নয়।

ব্যর্থ প্রেম

হাজার বছর ধ’রে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দু-দণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে-নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

বনলতা সেন

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4897
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1942
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1850
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1826
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1743
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1731
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1679
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1657
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1652
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1615
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1602
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1581
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1568
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1555
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1538
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1532
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1530
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1528
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1527
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1511
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
হৃদয়ের নীরবতা অবিনব মোঃ আবু তালেব 949
অস্তিত্বের প্রতিধ্বনি অবিনব মোঃ আবু তালেব 813
শূন্যের শপথ অবিনব মোঃ আবু তালেব 1061
নীরব নিয়তি অবিনব মোঃ আবু তালেব 1134
অন্তরের নূপুর অবিনব মোঃ আবু তালেব 963
মুক্তির সুর অবিনব মোঃ আবু তালেব 937
অন্তহীন সুর (The Endless Melody) জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 923
আগামীর প্রতিধ্বনি (The Echo of Tomorrow) জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 900
আমাদের শেষ প্রশ্ন (Our Final Question) জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 1015
আমাদের হয়ে ওঠার ধূলি (The Dust of Our Becoming) জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 825
সীমান্তের স্রোত জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 913
কণ্ঠের বিপ্লব জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 957
বিপ্লবের বৃষ্টি জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 928
সীমান্তের আকাশ জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 794
তুমি আমার বায়োস্কোপ অবিনব মোঃ আবু তালেব 928
আমিই বাংলাদেশ জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 936
জাগরণ জাগরণের ধ্বনি মোঃ আবু তালেব 967
শুধু দেখা হলোনা দুজনে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1125
উপদেশ অবিনব মোঃ আবু তালেব 1122
নীল পেয়ালার কারণবারি অবিনব মোঃ আবু তালেব 1299
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
শীত জীবন পাতার পদ্মফুল ইমদাদ শাহ্ 31
মৃত্যুর ডাক নাম স্বাধীনতা নাই শাবলু শাহাবউদ্দিন 30
প্রকৃতির মায়াবী ক্যানভাসে তুমি নাই শাবলু শাহাবউদ্দিন 37
হেমন্ত জীবন পাতার পদ্মফুল ইমদাদ শাহ্ 60
আমার দাদি প্রেমের অমল কাব্য (যৌথগ্রন্থ) মিরাজ হোসাইন গাজী 148
দাদির স্মরণে বসন্ত আসেনি ফিরে আব্দুল্লাহ আল নোমান 328
বটগাছ হারা এখনো নাম রাখিনি সাবিত রিজওয়ান 44
সবর কবর অবধি সবর ফেরদাউস সরকার - Ferdaus Sorkar 49
Salam মহাপ্রলয় ফেরদাউস সরকার - Ferdaus Sorkar 46
শুনলাম তোমার বিয়ে হয়েছে এখনো নাম রাখিনি সাবিত রিজওয়ান 40
বসন্ত আসেনি ফিরে বসন্ত আসেনি ফিরে আব্দুল্লাহ আল নোমান 183
আমরা নবীন বসন্ত আসেনি ফিরে আব্দুল্লাহ আল নোমান 141
দম্ভের দশ হাজার বাস্তব জীবন দরবেশ আল আমিন 102
আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যা প্ল্যান অপ্রকাশিত মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা 117
নীরব যোদ্ধা জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 134
শরৎ এর আগমন জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 148
শারদীয় উৎসব জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 124
একুশ জীবনের পান্ডুলিপি পুলক সরকার দীপ্ত 129
প্রেম চোখের জলে নদী মাজেদুল হক 131
নাফা নাফা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 139
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found