কবি ও কাব্য — বাংলা কবিতার অনলাইন সংগ্রহশালা

পৃথিবীতে এখন শব্দের কোনো অভাব নেই।
চারদিকে মাইকের গর্জন, টেলিভিশনের চড়া গলা,
বিজ্ঞাপনের চিৎকার, আদালতের রায়, আর রাজনৈতিক মঞ্চের হাততালি।
সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষ অবিরাম কথা বলে চলেছে—
মোবাইল স্ক্রিনে, চায়ের দোকানে, টকশোতে, কিংবা ভিড় ট্রাফিকের হর্নে।

অথচ এই বধির করা কোলাহলের নিচে
প্রতিদিন নিঃশব্দে হাজার হাজার শব্দ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে।

সেই শব্দগুলোর জন্য কোনো থানায় সাধারণ ডায়েরি হয় না,
সংবাদপত্রে তাদের কোনো ছবি ছাপা হয় না।

নিখোঁজ হয়ে যায় সেই শব্দটা—
যা এক শ্রমিক বলতে চেয়েছিল কারখানা মালিকের মুখের ওপর,
যখন তার মাসান্তের ঘাম থেকে কেটে নেওয়া হয়েছিল তিন দিনের হাজিরা।
কিন্তু ঘরে চাল নেই—এই কথা মনে পড়তেই
শব্দটা সে শুকনো ঢোঁকের সঙ্গে গিলে ফেলেছিল।

নিখোঁজ হয়ে যায় সেই সত্য বাক্যটা—
যা এক নাগরিক টাইপ করেছিল তার মুঠোফোনের পর্দায়;
কিন্তু ‘পাঠান’ বোতামে আঙুল ছোঁয়ানোর আগেই
মাঝরাতের দরজায় কড়া নাড়ার স্মৃতি তার মেরুদণ্ড দিয়ে বয়ে গিয়েছিল।
সে দ্রুত আঙুল চালিয়ে অক্ষরগুলো মুছে ফেলল—
স্ক্রিন আবার শাদা, যেন দেশে কোনো অন্যায় কোনোদিন ঘটেইনি।

নিখোঁজ হয়ে যায় সেই একটিমাত্র সহজ স্বীকারোক্তি—
যা স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বহু বছর পর
একজন মানুষ আরেকজনকে বলতে পারত;
কিন্তু ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠল, ভিড় ধাক্কা দিয়ে তাদের আলাদা করে দিল,
আর শব্দটা বুকের ভেতরেই পাথর হয়ে রয়ে গেল।

ক্ষমতা সব সময় শব্দকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
সে মাইক কিনে নেয়, অভিধান বদলে দেয়, নতুন নতুন আইন বানায়।
কিন্তু ক্ষমতা এটা বুঝতে পারে না—
উচ্চারিত শব্দের চেয়ে চেপে রাখা শব্দ অনেক বেশি বিপজ্জনক।

উচ্চারিত শব্দ বাতাসে মিলিয়ে যায়,
কিন্তু যে শব্দগুলো মানুষ ভয়ে, ক্ষুধায় কিংবা অপমানে উচ্চারণ করতে পারে না—
সেগুলো হারিয়ে যায় না।
সেগুলো ভেতরে জমে জমে মানুষের ভেতরে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে।

আমরা মনে করি, আমরা আমাদের ভাষায় বেঁচে আছি।
আসলে একজন মানুষ বেঁচে থাকে সেই না-বলা কথাগুলোর ভারে,
যা সে সারাজীবন নিজের ছায়ার কাছেও গোপন রেখেছিল।

একদিন যখন সমস্ত চাটুকারিতার মাইক বন্ধ হবে,
বিজ্ঞাপনের নিয়ন বাতিগুলো একে একে নিভে যাবে—
তখন এই নিখোঁজ শব্দগুলোই জমাট বাঁধা মাটির নিচ থেকে উঠে এসে
আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে।

তারা কোনো বিচার চাইবে না, কোনো ক্ষতিপূরণ চাইবে না।
তারা শুধু আমাদের চোখে চোখ রেখে একটা অমীমাংসিত প্রশ্ন ছুড়ে দেবে—

‘আমরা যখন সত্য ছিলাম,
তখন তোমরা আমাদের ফেলে দিয়ে কার জন্য এত শব্দ খরচ করেছিলে?’

নিখোঁজ শব্দগুলো

রাজপথের চকচকে পিচ যেখানে হঠাৎ থমকে যায়,
কাচের বহুতল ভবনের পেছনের ছায়া যেখানে গাঢ় হতে শুরু করে—
ঠিক সেখানেই মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এই অচিন গলি।

শহরের রঙিন মানচিত্রে এর কোনো দাগ থাকে না।
বিজ্ঞাপনের ঝলমলে ব্যানারে এর কোনো উল্লেখ নেই।
এখানে কোনো উন্নয়ন উদ্বোধন করতে বড় মানুষেরা আসেন না,
কোনো ক্যামেরা এখানে খবরের সন্ধানে ঢোকে না।

অথচ এই সরু, স্যাঁতসেঁতে গলির পেট থেকেই
প্রতি ভোরে বের হয়ে আসে শহরের সমস্ত চাকা ঘোরানোর মানুষগুলো।
যে মানুষগুলো দিনশেষে বড় রাস্তার ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে অন্য কারও কাচের গাড়ির দিকে চেয়ে থাকে,
যারা আকাশছোঁয়া অট্টালিকার বিশ তলায় উঠে দেওয়াল রঙ করে,
কিংবা যারা ঘাম ঝরিয়ে দিনশেষে ঘরে নিয়ে ফেরে
মাত্র দুটো শুকনো রুটির সংস্থান।

মাথার ওপর জট পাকিয়ে থাকা বিদ্যুতের তার,
ইটের খাঁজে জমে থাকা কালো শেওলা,
আর আধভাঙা নর্দমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক জং ধরা টিউবওয়েল—
এদের নিয়ে কোনো কবিতা লেখা হয় না।

এখানে স্বপ্নগুলো খুব বেশি ডালপালা মেলতে সাহস পায় না।
এখানে স্বপ্ন মানে—মাসের বাকি দিনগুলোতে কোনো বড় অসুখ না হওয়া।
এখানে সুখ মানে—রাতে ঘরে ফিরে চালের ড্রামটা খালি না দেখা।

আমরা যারা প্রধান সড়ক দিয়ে দ্রুত গাড়ি হাঁকিয়ে চলে যাই,
আমরা ভাবি—এই গলিটা অচেনা, এই মানুষগুলো ভিন্ন কোনো জগতের।
আমরা ভুলে যাই, এই অন্ধকারের ওপর ভিত্তি করেই
আমাদের সমস্ত আলোর সাম্রাজ্য দাঁড়িয়ে আছে।

আসলে গলিটা অচিন নয়;
আমরাই নিজেদের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে কখনো এদিকে তাকাই না।

কারণ এই গলির মুখে এসে দাঁড়ালে কোনো সাজানো মিথ্যা দেখা যায় না—
দেখা যায় মানুষের এমন এক অসমাপ্ত আর অনাবৃত ক্ষত,
যার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে
আমাদের সমস্ত সভ্যতার অহংকার এক মুহূর্তে অপরাধী হয়ে যায়।

অচিন গলি

সেদিনও বাবা বলেছিলেন,
“ফিরতে একটু দেরি হবে,
তুই ঘুমিয়ে পড়িস।”
ছোট্ট মেয়েটি দরজার পাশে
একটা প্রদীপ জ্বেলে রেখেছিল—
বাবা ফিরলে ভাত বেড়ে দেবে,
বাবা ফিরলে গল্প শুনবে,
বাবা ফিরলে বুকের ভেতর
জমে থাকা সব অভিমান ভুলে যাবে।

বাবা আর ফেরেননি।

রাত পেরিয়ে ভোর এসেছিল,
ভোর পেরিয়ে দুপুর;
দরজার পাশে প্রদীপটা নিভে গিয়েছিল,
ভাতের থালায় জমেছিল ধুলো,
আর ছোট্ট মেয়েটি প্রথমবার বুঝেছিল—
কিছু অপেক্ষার কোনো শেষ নেই,
কিছু দরজা সারাজীবন খোলা থেকেও
কাউকে ফিরিয়ে দিতে পারে না।

মানুষ বলে, বাবা মারা গেছেন।
মেয়েটি আজও বলে—
বাবা বাড়ি ফেরেননি।

এই যে একই ঘটনা,
অথচ কত আলাদা তার নাম!
মৃত্যু বুঝি সেই দূরত্বের নাম,
যেখানে সত্যি পৌঁছে যায়,
কিন্তু মন পৌঁছাতে পারে না।

একদিন আমিও চলে যাব—
আমার ঘরের চেনা চাবিটা
পড়ে থাকবে টেবিলের কোণে,
জানালার পাশে বইয়ের পাতায়
শুকিয়ে যাবে কোনো বিকেলের আলো;
আমার ব্যবহৃত চেয়ারটিতে
অন্য কেউ বসে খবর পড়বে,
আমার কাপটিতে চা ঢেলে
কেউ হয়তো বলবে—
“কাপটা সরিয়ে রাখো,
এটা ওর খুব প্রিয় ছিল।”

তারপর ধীরে ধীরে
আমার নামের পাশ থেকে
জন্মতারিখের দূরত্ব বাড়বে,
ছবির কাচে ধুলো জমবে,
আমার কণ্ঠের স্মৃতি
একদিন কণ্ঠহীন হয়ে যাবে।

যারা বলেছিল, “তোমাকে ছাড়া
আমরা এক মুহূর্তও বাঁচব না,”
তারাও একদিন বাজারে যাবে,
সন্তানের স্কুলের বেতন দেবে,
রান্নাঘরে লবণ কম হয়েছে বলে
অভিমান করবে—
পৃথিবী কাউকে শোকের ভেতর
চিরকাল আটকে রাখে না।

এই কথাটা বড় নিষ্ঠুর,
তবু এই কথাটাই সত্য।

মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে নিয়ে যায় না,
তার সঙ্গে নিয়ে যায়
একটি পরিবারের পুরোনো পৃথিবী।
মায়ের কাছে ছেলে শুধু ছেলে নয়—
সে তার প্রথম হাঁটতে শেখা সকাল;
স্ত্রীর কাছে স্বামী শুধু স্বামী নয়—
সে বহু অসমাপ্ত কথার সাক্ষী;
একটি শিশুর কাছে বাবা শুধু বাবা নয়—
সে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।

একজন মানুষ মরে গেলে
আসলে কতগুলো পৃথিবী মরে যায়—
তার হিসাব কোনো কবরস্থানে লেখা থাকে না।

আমি একদিন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে
এক বৃদ্ধকে কাঁদতে দেখেছিলাম।
তিনি মাটির দিকে তাকিয়ে বলছিলেন,
“তোর সঙ্গে আর ঝগড়া হবে না রে,
আর কোনো দিন তোর কাছে ক্ষমা চাওয়া হবে না।
তুই যে কথাটা বলতে চেয়েছিলি,
সেটাও আর শোনা হবে না।”

আমি বুঝলাম,
মানুষ শুধু মানুষকে হারিয়ে কাঁদে না—
কাঁদে সেই কথাগুলোর জন্য,
যেগুলো বলা হয়নি;
সেই ক্ষমাটুকুর জন্য,
যা চাওয়া হয়নি;
সেই আলিঙ্গনের জন্য,
যা দেওয়ার সময় হয়েও দেওয়া হয়নি।

মৃত্যু বড় অদ্ভুত চোর—
সে চলে যাওয়ার আগে
কোনো শব্দ করে না,
কোনো বিদায় চায় না;
শুধু একদিন এসে
আমাদের সমস্ত “পরে বলব”
চিরদিনের জন্য কেড়ে নেয়।

তাই কাউকে ভালোবাসলে
আজই তার পাশে বসো,
অভিমান থাকলে আজই বলো,
ভুল করলে আজই ক্ষমা চাও।
কাল বলে পৃথিবীতে কিছু নেই—
আছে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি শব্দ,
যার ওপর মানুষের কোনো অধিকার নেই।

তবু আমি মৃত্যুকে
শুধু অন্ধকার বলে মানতে পারি না।
যে মা চলে গিয়েও
সন্তানের কথায় বেঁচে থাকেন,
যে বাবা মাটির নিচে থেকেও
ছেলের সততায় পাহারা দেন,
যে মানুষ হারিয়ে গিয়েও
অন্য মানুষের চোখে সাহস জ্বালান—
তাঁরা কি সত্যিই নিঃশেষ হয়ে যান?

হয়তো মানুষ ফিরে আসে না,
কিন্তু তার ভালোবাসা ফিরে আসে—
কোনো বিপন্ন রাতে সাহস হয়ে,
কোনো অসহায় শিশুর মুখে হাসি হয়ে,
কোনো অন্যায়ের সামনে
মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি হয়ে।

মৃত্যু শরীরের ঠিকানা মুছে দেয়,
স্মৃতির সব দরজা মুছতে পারে না।
সময় ছবিকে ফিকে করে,
কিন্তু একটি ভালো কাজের আলো
কত অচেনা মানুষের জীবন ছুঁয়ে যায়—
তার হিসাব সময়ও রাখে না।

একদিন আমাকেও শুইয়ে দেবে
একটু মাটির নিচে।
আমার বুকের ভেতর জমে থাকা
সব স্বপ্ন থেমে যাবে,
আমার অসমাপ্ত কবিতার পাশে
আর কোনো শব্দ বসবে না।

তখন কেউ যদি আমার কবিতা পড়ে
এক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়,
কোনো নিঃসঙ্গ মানুষ যদি ভাবে—
“পৃথিবীতে আমার কষ্ট বোঝার মতো
আরেকজন মানুষ ছিল,”
কোনো ভীত মানুষ যদি
আমার একটি লাইন পড়ে
অন্যায়ের সামনে দাঁড়ায়—

তবে আমার মৃত্যুর পরেও
আমার জীবনের কিছুটা অংশ
পৃথিবীতে কাজ করে যাবে।

শেষ পর্যন্ত মৃত্যু কী?

একটি নিঃশ্বাসের থেমে যাওয়া?
একটি পরিচিত কণ্ঠের হারিয়ে যাওয়া?
একটি ঘরের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া?
নাকি অসংখ্য মানুষের স্মৃতিতে
একটি মানুষের ধীরে ধীরে
অন্য অর্থ হয়ে ওঠা?

আমি জানি না।

শুধু জানি,
যে মানুষটি আজ তোমার পাশে বসে আছে,
তার হাতটি একদিন
তোমার হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
যে চোখ দুটি তোমার দিকে তাকিয়ে
প্রতিদিন পৃথিবীকে সহজ করে দেয়,
সেই চোখ একদিন চিরতরে বন্ধ হবে।

তাই তার পাশে থাকো।
পৃথিবীকে জয় করার আগে
একটি মানুষের মন জয় করো।
ইতিহাসে নাম লেখানোর আগে
কারও দুঃসময়ে নিজের নাম লেখাও।

কারণ—

কবর মানুষকে মাটির কাছে ফিরিয়ে দেয়,
কিন্তু ভালোবাসা তাকে মানুষের কাছে রেখে যায়।

আর মৃত্যু?

মৃত্যু হয়তো জীবনের শেষ গল্প—
কিন্তু গল্পটি কতটা সুন্দর ছিল,
তা নির্ধারণ করে শেষ নিঃশ্বাস নয়;

তা নির্ধারণ করে,
তোমার চলে যাওয়ার দিন
কতগুলো চোখ তোমাকে খুঁজবে,
কতগুলো হৃদয় তোমার জন্য কাঁদবে,
আর কতগুলো মানুষ তোমার কাছ থেকে
মানুষ হতে শিখবে।

জীবনের শেষ মুহুর্তের পর

জীবন কোনো ফুলের নাম নয়,
যার গায়ে শিশির জমে থাকে;
জীবন হলো পাথরের বুকে
শিকড় গেড়ে বেঁচে থাকার সাহস।

জীবন কোনো নদীর নাম নয়,
যে শুধু সাগরের দিকে যায়;
জীবন সেই তৃষ্ণার নাম,
যে জল পেয়েও সমুদ্র খুঁজে বেড়ায়।

মানুষ জন্মায় এক মুঠো কান্না নিয়ে,
মৃত্যুর সময় রেখে যায় কিছু প্রশ্ন;
মাঝখানে যে সময়টুকু—
সেইটুকুর নামই জীবন,
সেইটুকুই তার সমস্ত দর্শন।

কেউ জীবন কাটায় বেঁচে থাকার জন্য,
কেউ বেঁচে থাকে জীবনের অর্থ খুঁজতে;
কেউ সত্য জেনেও নীরব থাকে,
কেউ একা দাঁড়ায় সত্যের পক্ষে।

অথচ সত্য কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠের দাস নয়,
মিথ্যা কখনো সত্য হয় না সিংহাসনে বসে;
ইতিহাসের পাতায় কত রাজা হারিয়ে গেছে,
একটি সত্য আজও বেঁচে আছে মানুষের মুখে।

জীবন বড় অদ্ভুত বিচারক—
সে কাউকে আগেভাগে রায় শোনায় না;
যে আজ অন্যের চোখের জল মুছে,
কাল তারই চোখে জল আসবে কি না,
কেউ তার উত্তর জানে না।

এখানে প্রাসাদও একদিন ধুলো হয়,
মুকুটও একদিন জাদুঘরের বস্তু;
শুধু একটি ক্ষুধার্ত মুখের দীর্ঘশ্বাস
ক্ষমতার সমস্ত অহংকারের চেয়ে বড় সত্য।

তুমি কী পেয়েছ, তা জীবনের হিসাব নয়;
কী হারিয়েছ, তা-ও শেষ কথা নয়।
তুমি হারানোর পর কেমন মানুষ রইলে—
জীবনের গভীরতম প্রশ্ন বোধ হয় সেটাই।

কারণ দুঃখ মানুষকে শুধু ভাঙে না,
কখনো ভাঙা মানুষকেই গভীর করে;
যে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অহংকার,
সেই আগুনেই কোনো কোনো আত্মা
নিজের আসল পরিচয় খুঁজে পায়।

মনে রেখো—
সময় কাউকে থামিয়ে রাখে না,
মৃত্যু কাউকে আলাদা করে চেনে না;
রাজা আর ভিখারির শেষ ঠিকানা এক,
শুধু তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতির ওজন এক নয়।

জীবন তোমাকে সুখী করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি,
পৃথিবী তোমার প্রতি ন্যায়বিচারের শপথ করেনি;
তবু অন্যায় দেখে মুখ ফিরিয়ে নিলে
তোমার বেঁচে থাকা আর পাথরের পড়ে থাকা—
এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

তাই বেঁচে থেকো—
কিন্তু শুধু নিঃশ্বাসের পক্ষে নয়,
মানুষের পক্ষে।

কথা বলো—
কিন্তু শুধু নিজের অধিকারের জন্য নয়,
যার কণ্ঠ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তার জন্যও।

ভালোবাসো—
কিন্তু শুধু পাওয়ার আশায় নয়,
হারিয়েও যেন হৃদয় ছোট না হয়ে যায়।

আর একদিন যখন তোমার নাম
সময়ের ধুলোয় মুছে যাবে,
তখন যেন পৃথিবী বলতে পারে—
একজন মানুষ এসেছিল,
যে অন্ধকারকে ভাগ্য বলে মানেনি,
অন্যায়কে নিয়তি বলে মেনে নেয়নি,
আর নিজের জীবন বাঁচাতে গিয়ে
অন্যের জীবনকে তুচ্ছ করেনি।

শেষ পর্যন্ত জীবন মানে
কত দীর্ঘকাল তুমি পৃথিবীতে ছিলে, তা নয়;
জীবন মানে—
তোমার চলে যাওয়ার পর
পৃথিবীটা সামান্য হলেও
আরও মানুষের হয়ে উঠল কি না।

জীবন

সকালবেলা মসজিদে মুই শরিক করিব কিছু,
কত টাকা দিব—এই ভেবে মোর বিভ্রান্তি নিল পিছু।
এই জগতে আছে যত মোর জমিজমা আর অর্থ,
নিব না কিছু সঙ্গে—মুই, এই ছিল মূল শর্ত।
দম্ভ ভরে তাই কহিলাম, “লেখো দশ হাজার খানা,”
কহিলাম, তাই জানুক সবাই—মুই কত বড় জনা।
কেউ লেখিল পাঁচশ-দুশ, জোর করে যেন হাজার,
কহিলাম, আমি ধান তুলে দেব, তবু এমন বাজার!
নবান্নে আজ ধান বেচিনু, খড় সঙ্গে আরও,
বউ চেঁচিয়ে হিসাব শুধায়, “সকল তাগাদা সারো!”
শাড়ি কিনিবে, দুল কিনিবে—বোনের বিয়ে যে তার,
শ্বশুরমশাই চিঠিতে জানান, কিছু অর্থের দরকার।

ভাই কহিল, “পাঞ্জাবি দাও,” মার ভেঙেছে খাটের পাশি,
বাপে রেগে কয়, “ওষুধ বিনে বাঁকা হলো মোর ছাতি।”
ছোট মেয়ে মোর করুণ চাহুনিতে তাকিয়েছে মোর দিকে,
হেসে কহিলাম, “তোমার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।”
ভুলে যে গেলাম কথা, যে দিলাম—মসজিদে শরিক হব,
টাকা যে সব ফুরিয়ে গেছে, এ কথা কেমনে কব?
সেদিন যারা নাম লিখাল, বাকি রাখেনি তো আর কেউ,
লজ্জায় আজ মন পানে ধায় অনুশোচনার ঢেউ!

দম্ভের দশ হাজার

বাছাইকৃত কবিতা

সাম্প্রতিক সংযোজন

শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
রাধা-কৃষ্ণ কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 4846
চোখের নেশার ভালবাসা অবিনব মোঃ আবু তালেব 1877
পল্লী স্মৃতি পল্লী সুফিয়া কামাল 1806
চোখের কাজল কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1748
তবে কেন আমি অপরাধী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1704
তোকে নিয়ে… এলোমেলো তোকে নিয়ে হাবীব কাশফি 1678
কর্মফল চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1649
নবী দ্বীনের রাসুল অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1615
রমণী চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1571
চাঁদবদনী অবিনব মোঃ আবু তালেব 1557
জন্মান্তর অবিনব মোঃ আবু তালেব 1544
তোমাকে ভালোবেসে তোমাকে ভালোবেসে জীবনানন্দ দাশ 1536
পার্থক্য চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1535
ঘুঙুরটা আজ বাজুক জোরে অবিনব মোঃ আবু তালেব 1502
জরুরী বিষয় অন্তরে ইসলাম মোঃ আবু তালেব 1502
অবিলাষ চতুষ্পদী কাব্য মোঃ আবু তালেব 1495
করিব আজ রঙ্গ লীলা কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1488
রাধা প্রেমের প্রেমিক কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1482
শ্যাম তোমারে ভালবেসে কীর্তনাঙ্গ মোঃ আবু তালেব 1479
 সুপ্ত-প্রিয়া অবিনব মোঃ আবু তালেব 1464
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
নিখোঁজ শব্দগুলো অবিনব মোঃ আবু তালেব 34
অচিন গলি শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 32
জীবনের শেষ মুহুর্তের পর প্রথম নিরবতা মো: আবু তালেব 40
জীবন প্রথম নীরবতা মোঃ আবু তালেব (Md. Abu Taleb) 57
মৃত্যুর আগে মানুষ কতবার মরে শহর সমাচার মোঃ আবু তালেব 88
রাষ্ট্রের কাছে একটি শিশুর প্রশ্ন অবিনব মোঃ আবু তালেব 75
পৃথিবী, তুমি কি আমাকে মনে রাখবে অবিনব মোঃ আবু তালেব 78
স্মৃতির প্রবাস প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 92
বালিশ ভেজা রাত প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 101
পরবাস প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 83
টাকার চাকা প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 109
শেকড়ের টান প্রবাস জীবন মোঃ আবু তালেব 91
Where The Mind Is Without Fear (চিত্ত যেথা ভয়শূন্য) গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 101
Hope' is the thing with feathers (আশা) Hope is the thing with feathers Emily Dickinson 93
The Road Not Taken (যে পথটি নেওয়া হয়নি) The Road Not Taken Robert Frost 96
Desiderata (জীবনের জন্য কিছু কথা) Words for Life Max Ehrmann 101
Still I Rise (তবুও আমি উঠব) Still I Rise Maya Angelou 102
If (যদি) if Rudyard Kipling 91
Invictus (অপরাজেয়) Invictus William Ernest Henley 105
বিদ্রোহী অগ্নীবীনা কাজী নজরুল ইসলাম 96
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ কবি পঠিত হয়েছে
লিখিত, অলিখিত ঋণ লিখিত, অলিখিত ঋণ মেহেদী হাসান আইয়ুশ 101
অশ্রু অশ্রু মেহেদী হাসান আইয়ুশ 111
কাটাবিহীন ঘড়ি কাটাবিহীন ঘড়ি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 112
স্টেজ ফোর স্টেজ ফোর মেহেদী হাসান আইয়ুশ 107
তবুও তুমি আছো তবুও তুমি আছো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 103
মুগ্ধ বিষন্নতা মুগ্ধ বিষন্নতা মেহেদী হাসান আইয়ুশ 110
ভুলে যাবো ভুলে যাবো মেহেদী হাসান আইয়ুশ 148
সিজার নেই আফজাল সুয়েব 149
আল্লাহু আল্লাহু কাব্য-মালঞ্চ সুলাইমান সিরাজ 146
সে কখনো চিঠি লেখেনি সে কখনো চিঠি লেখেনি মেহেদী হাসান আইয়ুশ 148
পৃথিবী সুস্থ হলে কোভিডে পৃথিবী মেহেদী হাসান আইয়ুশ 108
তুমুল সন্ন্যাসী হতে হতে সন্ন্যাসী মেহেদী হাসান আইয়ুশ 101
এসো ফিরে কবি নাই সমুদ্র দাস 156
বৃত্তের বাইরে নেই আফজাল সুয়েব 176
অনন্ত ধ্রুবক অনন্ত ধ্রুবক মোছাঃ লুবা আক্তার 161
বৃষ্টি ও ছাতার কথোপকোথন অপ্রকাশিত Md. Mustafizur Rahman 159
কর্পোরেট কালচার অপ্রকাশিত Md. Mustafizur Rahman 156
শব্দের সুনামি অপ্রকাশিত Md. Mustafizur Rahman 158
এ শহর আমার নয় অপ্রকাশিত Md. Mustafizur Rahman 165
বায়তুল মাক্বদিস ভাবনাগুলো ফেরদাউসের ফেরদাউস সরকার 187
শিরোনাম কাব্যগ্রন্থ< কবি পঠিত হয়েছে
No poem found